স্কুল খুলল পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে, সমস্ত করোনা-বিধি মেনে ক্লাসও হল দশম শ্রেণির

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: বাজল স্কুলের ঘণ্টা! হু়ড়মুড় করে ছুটে এল কচিকাঁচার দল। স্যারেরা ক্লাস নিলেন চক-ডাস্টার হাতে। ছুটির পরে আবার কলকল করতে করতে বাড়ি গেল বাচ্চারা।

কয়েক মাস আগে এ ছবি বড়ই চেনা ছিল। স্কুলে স্কুলে এমন করেই চলত পঠনপাঠন। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতি যেন এ সব ভুলিয়ে দিয়েছে। মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের জেরে থমথমে নিস্তব্ধতা স্কুলচত্বর জুড়ে। ক্লাসের বেঞ্চে ধুলো জমেছে। স্যারেদের আর পড়ুয়াদের দেখা হওয়ার জানলা বলতে একফালি স্মার্টফোন।

কিন্তু একরকম স্বপ্নের মতোই এবার সেই পুরনো ছবি ফিরে এল পশ্তিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর ১ ব্লকের হাটসরবেড়িয়া বিসি রায় উচ্চবিদ্যালয় স্কুলে। মাঝে অবশ্য মাস্ক, থার্মাল স্ক্রিনিং, স্যানিটাইজেশনের কয়েকটা স্তর রয়ে গেছে, কিন্তু সে সব মেনেই পুরোদস্তুর ক্লাস হল স্কুলে।

স্কুল সূত্রের খবর, পড়ুয়াদের অভিভাবকদের ভূরি ভূরি আবেদন জমা পড়েছিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বৃন্দাবন ঘটকের কাছে। সকলেই চাইছিলেন, স্কুলে আসুন বাচ্চারা। বাড়ি থেকে অনলাইনে ক্লাস করা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেই সব আবেদনের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সঙ্গে মিটিং করেন প্রধান শিক্ষক। সেই মিটিং থেকেই সিদ্ধান্ত হয়, কোভিড ১৯ সংক্রমণের সমস্ত নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়ে চালু হবে পঠন পাঠন।

এর পরেই আজ, বুধবার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসে এবং ক্লাসে বসে পড়াশোনা করে। সেই পুরোনো ছন্দে বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল– সব পড়ালেন স্যারেরা, দিলেন বাড়ির কাজও। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমস্ত কড়াকড়ি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রবেশ পথেই থার্মাল স্ক্রিনিং, স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা, সেই সঙ্গে মাস্ক এবং সামাজিক দূরত্ব পালনে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

এই ব্যবস্থার ফলে খুশি ছাত্রছাত্রী থেকে অভিভাবকেরাও। তাঁরা জানাচ্ছেন, করোনার জেরে স্কুল বন্ধ, বন্ধ পড়াশোনা। কিন্তু থমকে নেই সময়। তাই অভিভাবকরা খুশি তাঁদের কথায় মান্যতা দিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্লাস চালু করেছেি।

করোনা সংক্রমণ রুখতে শিক্ষা দফতরের নির্দেশেই রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়ে বন্ধ পঠনপাঠন। তারই মাঝে দাসপুরের এই বিদ্যালয়ে শুরু হল ক্লাস। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বৃন্দাবনবাবুর কথায়, “আমরা অভিভাবকদের আবেদনের ভিত্তিতে কোভিড ১৯ সংক্রমণ রোধের সমস্ত ব্যবস্থা করেই পরীক্ষামূলক ভাবে পঠনপাঠন চালু করেছি। আজ শুধু দশম শ্রেণির পঠনপাঠন চালু হল। সাফল্য পেলে আংশিক ভাবে, ছোট ছোট গ্রুপে অন্যান্য ক্লাসও চালু হবে। তবে শিক্ষা দফতর নির্দেশ দিলে আমরা বন্ধ রাখব স্কুল।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More