বুধবার, আগস্ট ২১

সাদা ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে ভোটপ্রচারে ব্যস্ত দিনমজুর শ্রমিক! এই নিয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন ২৪ বার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেশায় তিনি শ্রমিক। কিন্তু তাঁর নেশা, ভোটে লড়াই করা। তাই তো এই নিয়ে ২৪তম নির্বাচনী লড়াইয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন রাজস্থানের গুলাবেওয়ালা গ্রামের বাসিন্দা তিতার সিং।

তিনি নিজে গরিব। তাই গরিবের যন্ত্রণাও প্রকৃত অর্থে উপলব্ধি করেন। এই কারণেই নাকি রাজস্থানে বসবাসকারী ৭০ শতাংশ গরিব ও চাষির কথা সংসদে পৌঁছে দিতে নির্দল প্রার্থী হয়ে বারবার ভোটে দাঁড়ান মনরেগা প্রকল্পের ১০০ দিনের শ্রমিক তিতার সিং।

এর আগে বিধানসভা ভোটে তিনি লড়েছেন ১০ বার। লোকসভাতেও লড়েছেন ১০ বার। বাকি চার বার পুরসভার ভোটে লড়েছেন তিনি। তবে ২০১৯-এ প্রার্থী হয়েই চমক অপেক্ষা করছিল তাঁর জন্য। এই গরমে ঘুরে ঘুরে ভোটপ্রচার করতে যাতে তিতার সিংয়ের কষ্ট না হয়, সে জন্য রাজস্থানের বিত্তশালী রাজপুত গুরবীর সিং একটি তাগড়া সাদা ঘোড়া উপহার দিয়েছেন তিতারকে। সূত্রের খবর, ওই ঘোড়ার দাম সওয়া এক কোটিরও বেশি।

২৪তম বার ভোটে প্রার্থী হওয়া তিতার সিং পেশায় দিনমজুর। তাঁর বয়স ৭৪। গত বছর ডিসেম্বর মাসে রাজস্থান বিধানসভা ভোটেও তিনি গঙ্গানগর থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন।

রাজস্থান বললে প্রথমেই মাথায় আসে ঐতিহ্য, ইতিহাস, ঐর্শ্বয, রাজপরিবারের গরিমার কথা। এবছর লোকসভা ভোটেও রাজস্থানের প্রার্থী তালিকা সকলেই হেভিওয়েট। শুধু নামে নয়, ব্যাংক ব্যালেন্সেও। কোথাও দাঁড়িয়েছেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে। তো কোথাও অলিম্পিকজয়ী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এমন একটা রাজ্যে লোকসভা ভোটে দরিদ্রতম নির্দল প্রার্থী হিসেবে আমজনতার প্রতিনিধি তিতার সিং। যাঁর দিনে আয় ১৪২ টাকা। দিন আনা দিন খাওয়ার সংসারে ভরসা ওইটুকুই। তবু ভোটে জেতার আসা ছাড়ছেন না তিতার।

মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করা তিতারের সম্পত্তির পরিমাণও সকলের চেয়ে ব্যতিক্রমী। তিতারের দাবি, তাঁর হাতে রয়েছে নগদ মাত্র এক হাজার টাকা। স্থাবর অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পত্তির পরিমাণ দু’লক্ষ টাকা। তাঁর কাছে একটা মোবাইলও নেই।

তিতার বলেন, “কত ঘুরি আমি, কত কথা বলি। সকলের মধ্যে মিশে থাকাটাই তো মজা। সারা দিন মোবাইলে লেগে থাকলে সেটা আর হবে না। সবার সঙ্গে দেখা করব। ভোট চাইব।” লোকসভা যজ্ঞে তিতারের বড় ভরসা তাঁর ভাইপো যুগসের সিং। জেঠু-ভাইপো মিলে সামলেছেন মোট ১১টা নির্বাচন।

Comments are closed.