মঙ্গলবার, জুন ২৫

প্রচারে গিয়ে সুরিন্দর দেখলেন এ কী ! এ তো পুষ্প !

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান ভোট প্রচারে বেরিয়ে হঠাৎই দেখা। একেবারেই হঠাৎ। পরতে পরতে জমে থাকা সময়ের পলি যেন সরে গেল নিমেষে। উঁকি দিয়ে গেল যৌবন। মেতে উঠলেন দুজনেই।

আসানসোল বিসি কলেজে পড়ার সময় থেকেই মনিকার সঙ্গে প্রেম সুরিন্দরের। আর মনিকার ছায়াসঙ্গী পুষ্প। তাই একই সুতোয় যেন বাঁধা থাকতেন তাঁরা। সুরিন্দর বিসি কলেজে পড়লেও মনিকা আর পুষ্প ছাত্রী ছিলেন আসানসোল গার্লস কলেজের। কলা বিভাগে। মনিকা আর সুরিন্দরের মন দেওয়া নেওয়া চলছে তখন। আর তার একমাত্র সাক্ষী পুষ্প।

এরপর বরাকর থেকে বাঁকা— জল গড়িয়েছে অনেক। সুরিন্দর সাংসদ থেকে মন্ত্রী। কেন্দ্রীয় নেতা। মণিকার সঙ্গে তাঁর জমজমাট সংসার। পুষ্পদেবীরও বিয়ে হয়। বর্ধমানেই সংসার।

প্রচারের শুরুতে আজ বর্ধমানের খক্কর শাহ মাজারে চাদর চাপান বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রের হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থী এস এস আলুওয়ালিয়া। তারপর সোজা দুর্গাপুর। পথে বেশ কয়েকবার মানুষের মাঝখানে। তেমনই এক গলির মুখে হঠাৎই সবাইকে সরিয়ে দ্রুত পায়ে প্রার্থীর দিকে এগিয়ে আসেন এক প্রৌঢ়া। দু জনে কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টি বিনিময়। কিছুক্ষণের নীরবতা। এরপরই সব অর্গল ভেঙে জড়িয়ে ধরলেন একে অপরকে।

ভোটে দাঁড়ানো এস এস আলুওয়ালিয়াই সেই সুরিন্দর প্রথমে বোঝেননি পুষ্প। জানতেই আবেগে ভেসে গেলেন। আর বিশেষ সেই ভোটারকে দেখে আবেগের বাঁধ ভাঙল প্রার্থীরও। যৌবনের সেই সমস্ত ভেসে যাওয়া দিনের যে একমাত্র সাক্ষী ছিলেন বার্নপুরের মেয়ে পুষ্প ঘোষ। এ দিন তাঁর ছেলে সোমনাথও ছিলেন মায়ের পাশে। কলেজে পড়ান তিনি। মায়ের কাছে বহুবার গল্প শুনেছেন। আজ খুব কাছ থেকে দেখলেন সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়াকে।

চারপাশে তখন প্রার্থীকে নিয়ে ব্যস্ততা। প্রচারের জাঁকজমক। কোনও কিছুই অবশ্য ছুঁয়ে যায়নি পুষ্পকে। যেন আগের জন্মের কথা। পরের পর স্মৃতি হাতড়ে তখন মণিমাণিক্য খুঁজে চলেছেন তিনি।

Comments are closed.