মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

আমার এক শত্রু আছেন, পদ থেকে সরানোর পরে বললেন অলোক বর্মা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সিবিআই প্রধানের পদ থেকে সরানোর পরে একটিই কথা বললেন প্রাক্তন ডিরেক্টর অলোক বর্মা। তাঁর দাবি, আমার এক শত্রু আছেন। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। একজনের জন্যই আমাকে বদলি করে দেওয়া হল। তিনি আমার ক্ষতি চান। ব্যাপারটা দুঃখজনক।

গত বৃহস্পতিবার সিবিআইয়ের ডিরেক্টর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় অলোক বর্মাকে। তার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই তাঁকে নিজের পদে ফিরিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসে উচ্চপর্যায়ের কমিটি। তার সভাপতি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এছাড়া ছিলেন কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং বিচারপতি এ কে সিক্রি। কমিটির বক্তব্য, সিবিআই প্রধানের কাছে যে সততা আশা করা যায়, তা বর্মা দেখাতে পারেননি। যদিও মল্লিকার্জুন খাড়গে এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন।

পরে বর্মা এক বিবৃতিতে বলেন, সিবিআই দেশের প্রধান তদন্তকারী সংস্থা। তার স্বাধীনতা রক্ষা করা উচিত। তাকে বাইরের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা উচিত। আমি চেষ্টা করেছিলাম যাতে এই সংস্থার সম্মান বজায় থাকে। কিন্তু তা ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল।

অলোক বর্মা ১৯৭৯ সালের ব্যাচের আইপিএস অফিসার। তাঁকে এখন ফায়ার সার্ভিসেস অ্যান্ড হোম গার্ডসের প্রধান করা হয়েছে। ওই পদ থেকে তিনি অবসর নেবেন আগামী ৩১ জানুয়ারি।

মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, কোনও শুনানি ছাড়াই বর্মাকে সরিয়ে দেওয়া হল। সিবিআইয়ের স্বশাসন এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্যই তাঁকে ওই সংস্থার ডিরেক্টর রাখা উচিত ছিল।

মূলত সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতেই তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি। খাড়গের বক্তব্য, ভিজিলেন্স কমিশনের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তাছাড়া বর্মার বিরুদ্ধে যে প্রমাণ দেখানো হচ্ছে, তা কতদূর বিশ্বাসযোগ্য সন্দেহ আছে।

কংগ্রেসের অভিযোগ, বর্মা রাফায়েল দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছিলেন। সেজন্যই তাঁকে তড়িঘড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তিনি ফের আগের পদ ফিরে পেলেও সরকার ফের সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সরিয়ে দিল।

‘একজন শত্রু’ বলতে বর্মা কাকে ইঙ্গিত করছেন এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিবের কাছে অভিযোগ করেছিলেন সিবিআইয়ের স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা। যিনি আবার প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বর্মা রাকেশ আস্থানাকেই শত্রু বলতে চেয়েছেন না অপর কাউকে, তা নিয়েই এখন মাথা ঘামাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।

Shares

Comments are closed.