চরম মন্দা, গত সপ্তাহে পেট ভরে খেতে পাননি ৩ কোটি মার্কিন নাগরিক! রিপোর্ট আমেরিকান সেনসাস ব্যুরোর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের জেরে আর্থিক পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে, জীবনধারণ এতটাই অনিশ্চিত, যে ৩ কোটি মানুষের বাড়িতে পর্যাপ্ত খাবার পর্যন্ত নেই! এই পরিসংখ্যান খোদ আমেরিকার। প্রশ্ন উঠেছে, আমেরিকার মতো দেশে সাধারণ মানুষের যদি এই অবস্থা হয়, তবে অপেক্ষাকৃত গরিব দেশগুলির মানুষের কী হবে!

জানা গেছে, আমেরিকান সেনসাস ব্যুরো মে মাস থেকে একটি সার্ভে শুরু করেছে। বিভিন্ন শহরের সাধারণ নাগরিকদের খাবারের জোগান কতটা রয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য রাখা শুরু করেছে তারা। সেই সার্ভে করতে গিয়েই চমকে উঠেছেন সেনসাস ব্যুরোর আধিকারিকরাও। তিন মাসের এই সমীক্ষা বলছে, দেশের কয়েক কোটি মানুষের কাছে খাবার পৌঁছচ্ছে না প্রয়োজন মতো। গত সপ্তাহেই দেশের প্রায় তিন কোটি মানুষের কাছে পর্যাপ্ত খাবার ছিল না বলে জানিয়েছে সমীক্ষা।

করোনার জেরে কয়েক মাস ধরেই বিধ্বস্ত আমেরিকা। সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই-ই লাগাম ছাড়িয়েছে। তার উপর একটানা লকডাউনে বিপদ আরও বেড়েছে। কাজ হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আর্থিক মন্দা। এমন অবস্থা আমেরিকান সেনসাস ব্যুরোর সাপ্তাহিক ‘পাল্‌স সার্ভে’ অনুযায়ী, ২ কোটি ৩৯ লক্ষ মানুষ দাবি করেছেন, গত সপ্তাহের একটা সময়ে তাঁদের কাছে যথেষ্ট খাবার ছিল না পরিবারের সকলের পেট ভরার মতো। আরও প্রায় ৫৪ লক্ষ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁদের এই লকডাউনে প্রায়ই পর্যাপ্ত খাবার জোটেনি।

এই সমীক্ষায় দেশের ২৪ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ অংশ নেন বলে জানা গেছে। বুধবার ওই সমীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।

আর্থিক মন্দায়র জেরে আঁধার ক্রমে বেড়ে উঠলেও, আমেরিকায় এখনও থামেনি করোনা মহামারীর মৃত্যুমিছিল। মৃতের সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে বারবারই অভিযোগের আঙুল উঠেছে পরিস্থিতি সামাল না দিতে পারার জন্য, কিন্তু তিনি কেবল দফায় দফায় চিনকেই দায়ী করে গেছেন।

এই অবস্থায় আমেরিকায় আসন্ন প্রেসিডেন্ট ইলেকশন। অনেকেই মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কোণঠাসা। হিসেবমতো নভেম্বরেই শেষ হয়ে যাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ। এই পরিস্থিতিতে করোনার কথা চিন্তা করে ভোটাররা যাতে সশরীরে উপস্থিত না হয়েই ভোট দিতে পারেন তার জন্য আমেরিকায় ‘মেল ইন ব্যালট’ ব্যবস্থায় ভোট করার দাবি উঠেছে। কিন্তু প্রথম থেকেই এর বিরুদ্ধে মত দিয়ে এসেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, এই ভাবে ভোট হলে তাতে জালিয়াতির সম্ভাবনা প্রবল।

তবে ট্রাম্প যে দাবি করছেন তাকে অজুহাত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বক্তব্য, করোনা মোকাবিলায় যে ব্যর্থতা ট্রাম্প প্রশাসন দেখিয়েছে তার পরে নভেম্বরে নির্বাচন হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফিরে আসা স্বপ্ন থেকে যাবে। আর তার জন্যই এখন ভোট এড়িয়ে যেতে চাইছেন তিনি। দেশে হওয়া সাম্প্রতিক সমীক্ষা রিপোর্টেই সেই ইঙ্গিত মিলেছে। দেখা গিয়েছে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা যেমন কমছে তেমনই বাড়ছে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের জনপ্রিয়তা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More