সরকার বিদেশিদের কাশ্মীরে যেতে দিচ্ছে, দেশের নেতাদের অনুমতি দিচ্ছে না কেন? কটাক্ষ কংগ্রেসের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার যাবে জম্মু-কাশ্মীরে। সেখানকার নানা অঞ্চলে ঘুরে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করবে। সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে দেখা করেছেন। এর পরেই কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ প্রশ্ন করেন, যিনি বুক ঠুকে জাতীয়তাবাদের কথা বলেন, তিনি ইউরোপীয় নেতাদের জম্মু কাশ্মীরে যেতে অনুমতি দিচ্ছেন। কিন্তু ভারতীয় নেতাদের সেখানে যেতে দেননি। তিনি ভারতের সংসদ ও গণতন্ত্রের অপমান করেছেন।

    জয়রাম রমেশ টুইট করে বলেন, ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের জম্মু কাশ্মীরে গিয়ে সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু যিনি জাতীয়তাবাদের কথা বলে বুক চাপড়ান, তিনি ইউরোপীয় নেতাদের সেখানে যেতে দিচ্ছেন। তিনি ভারতের সংসদ ও গণতন্ত্রকে সোজাসুজি অপমান করেছেন।

    সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পরে জম্মু-কাশ্মীরে কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা জানার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৫ জন প্রতিনিধি মঙ্গলবার সেখানে যাবেন। তাঁরা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। কংগ্রেস নেতা জয়দীপ শেরগিল বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা যাতে কাশ্মীরে যেতে পারেন, সেজন্য বিজেপি সরকার সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। কিন্তু ভারতের বিরোধী নেতারা সেখানে যেতে পারছেন না কেন? কাশ্মীরে যাওয়ার জন্য ভারতীয় নেতারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় সরকার এদিন বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের ভারতে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীরে গিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা সেখানকার পরিস্থিতি ভালো করে বুঝতে পারবেন। জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে লাদাখের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যও নিশ্চয় তাঁদের চোখে ধরা পড়বে।

    গত সপ্তাহে মার্কিন বিদেশ দফতরের সহকারী সচিব অ্যালিস ওয়েলস বলেন, ভারত সরকার কাশ্মীরের বাসিন্দাদের অনেককে বন্দি করে রেখেছে। এমনকি রাজ্যের তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও বন্দি হয়ে আছেন।

    ভারত সরকারের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, মানবাধিকারকে সম্মান জানান। ইন্টারনেট ও মোবাইল সহ যে পরিষেবাগুলি কাশ্মীরে বন্ধ রেখেছেন, সেগুলি ফের চালু করুন।

    এর আগে অবশ্য আমেরিকা বলেছিল, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা থাকবে কিনা তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কেন্দ্রীয় সরকার আন্তর্জাতিক মহলকে আশ্বাস দিয়ে বলে, আমরা জম্মু-কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সবরকম চেষ্টা করব। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা সফরে আসছেন শুনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা জাভেদ বলেন, আশা করি তাঁদের সঙ্গে এখানকার সাধারণ মানুষের কথা হবে। স্থানীয় মিডিয়া, ডাক্তার এবং নাগরিক সমাজের মানুষজনের সঙ্গে তাঁরা কথা বলবেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More