বুধবার, জুন ২৬

শনিবারই লখনউতে জোট ঘোষণা করে দিতে পারেন অখিলেশ-মায়াবতী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সপ্তাহ আগেই দিল্লিতে পিসি-ভাইপোর বৈঠকে জোটের সূত্র প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল বলতে লোকসভা কেন্দ্র ধরে ধরে আরও কিছুটা আলোচনা। গত সাত দিনে তা-ও অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পরে কাল শনিবার লখনউয়ে জোটের ঘোষণা করতে পারেন অখিলেশ-মায়াবতী! যে জোট নিয়ে রীতিমতো সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করে দিয়েছেন অমিত শাহরা।

গত প্রায় বিশ বছর ধরে ভোট রাজনীতিতে মায়াবতীর দৃঢ় অবস্থান ছিল, প্রাক ভোট কোনও জোটে যাবেন না তিনি। চোদ্দোর লোকসভা ভোটেও তা-ই করেছিলেন মায়া। কংগ্রেসের জোট প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মায়াবতী হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন, সেই ফর্মুলা এখন অচল। কারণ, চোদ্দোর ভোটে ১৯ শতাংশ ভোট পেয়েও উত্তরপ্রদেশে একটিও আসন পায়নি তাঁর দল। তাই বাধ্য হয়ে সেই মায়াই এখন জোটমুখী।

তবে এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে উত্তরপ্রদেশে বিরোধী জোট হলেও মহাজোট সম্ভবত হচ্ছে না। সপা-বসপার সঙ্গে জোটে অজিত সিংহের রাষ্ট্রীয় লোকদলও জুড়তে পারে। কিন্তু কংগ্রেসকে জোটের বাইরে রেখেই রফাসূত্র তৈরি করেছেন অখিলেশ-মায়াবতী। কংগ্রেসের জন্য শুধু অমেঠি ও রায়বরেলী আসন ছেড়ে রেখে সপা ও বসপা ৩৭টি করে আসনে লড়তে পারে। অজিত সিংহদের জন্য ছাড়া হতে পারে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের চারটি আসন।

বস্তুত, উত্তরপ্রদেশে সপা-বসপা এক হলে যে বিজেপি ঘোর চাপে পড়তে পারে, তার হাতে-কলমে ফল পেয়েছেন পিসি-ভাইপো। গত বছর উত্তরপ্রদেশে কাইরানা, গোরক্ষপুর লোকসভা ও ফুলপুর বিধানসভার উপ নির্বাচনে জোটের কাছে পরাস্ত হয়েছে বিজেপি। এর মধ্যে গোরক্ষপুর ছিল মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পাঁচ বারের জেতা লোকসভা আসন। তাতেই অশনি সংকেত দেখতে শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর দুর্গেই যদি জোটের কাছে হারতে হয়, তা হলে বাকি উত্তরপ্রদেশে কী পরিস্থিতি হতে পারে!

বিজেপি সূত্রের মতে, তাঁদের অভ্যন্তরীণ হিসেব অনুযায়ী সপা-বসপা জোট হলে উত্তরপ্রদেশে কম করে ২৫-৩০টি আসন হারাতে পারে বিজেপি। গত লোকসভা ভোটে বিজেপি কেন্দ্রে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার নেপথ্যে মেরুদণ্ডের মতো ছিল উত্তরপ্রদেশে ভোট ফলাফল। ৮০ টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৭১টি-তে জিতেছিল বিজেপি। তাদের শরিক আপনা দল জিতেছিল দু’টি আসনে। ফলে সেই সংখ্যা যদি এ বার অর্ধেক হয়ে যায়, তা বিজেপির জন্য মোটেই সুখকর নয়।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, উত্তরপ্রদেশে মায়া-অখিলেশ জোট আলোচনা চূড়ান্তে পর্যায়ে পৌঁছতেই কাকতালীয় ভাবে বালি খাদান মামলায় সিবিআই তদন্ত গতি পেয়েছে। এমনকি ওই মামলায় অখিলেশ যাদবকে জেরা করা হতে পারে বলে সিবিআই সূত্র দাবি করছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির এই তৎপরতাকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বলেই মন্তব্য করে সপা-বসপা।

তবে ঘরোয়া আলোচনায় অখিলেশ ও তাঁর দলের নেতা রামগোপাল যাদবের বক্তব্য, সিবিআই যত বাড়াবাড়ি করবে ততই তাঁরা লাভ দেখছেন। একই মত বসপা নেতাদেরও। কারণ, উত্তরপ্রদেশ জুড়ে এই বার্তা চলে গিয়েছে যে জোটের পথে কাঁটা বিছিয়ে দিতেই সিবিআই সক্রিয় হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় জোট আরও বেশি সহানুভূতি পাবে বলেই আশা করছেন পিসি ভাইপো।

Comments are closed.