সুশান্ত মৃত্যুর রিপোর্ট খতিয়ে দেখে যা মিলেছে, সিবিআই-কে জানালেন এইমসের চিকিৎসকরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির এইমস হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্যানেলের তরফে জমা দেওয়া হল সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য। সুশান্তের ময়নাতদন্তের এবং ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্ট ভাল করে খতিয়ে দেখার জন্য সিবিআই-এর নির্দেশে ডক্টর সুধীর গুপ্তর নেতৃত্বে ওই প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, সোমবার এই সব তথ্য সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার সময়ে দীর্ঘ বৈঠকও হয়েছে চিকিৎসক ও তদন্তকারীদের।

আজ থেকে তিন মাসেরও বেশি সময় আগে ১৪ জুন মুম্বাইয়ের বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় বলিুড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও পরে ওঠে খুনের অভিযোগ। দীর্ঘ টানাপড়েনের পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআইয়ের হাতে যায় তদন্তভার।

সোমবার একটি বিবৃতি দিয়ে সিবিআই জানিয়েছে, সুশান্তের মৃত্যুর পেছনে কোনও অস্বাভাবিকতা আছে কিনা তা জানার জন্য এইমসের ডাক্তারদের দ্বারস্থ হয়েছিল তারা। নির্দেশ ছিল, যাতে কোনও রকম ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর সম্ভাবনাও বাদ না যায় খুঁটিয়ে দেখতে।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই সুশান্ত সিং রাজপুতের পরিবারের আইনজীবী বিকাশ সিং টুইট করে লিখেছিলেন, “সিবিআইয়ের উপর হতাশ হয়ে যাচ্ছি। সুশান্তের মৃত্যু যে আত্মহত্যা নয়, খুন, এ বিষয়ে কিছুতেই তারা সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না। আমায় এইমসের চিকিৎসক সুশান্তের মৃতদেহের ছবি দেখে অনেক আগেই বলেছিলেন, তিনি ‘২০০ শতাংশ নিশ্চিত’ যে এটা আত্মহত্যা নয়, গলায় ফাঁস দিয়ে খুন।”

পাশাপাশি বিকাশ সিং দাবি করেন, এইমস হাসপাতালের যে চিকিৎসক দল সুশান্তের মৃতদেহের ফরেন্সিক টেস্ট করছে, সেই দলেরই সদস্য এক চিকিৎসকও নাকি জানিয়েছেন, আত্মহত্যা নয়, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে সুশান্তকে।

কারযত বিকাশ সিংয়ের এই দাবির উপর ভিত্তি করেই ডক্টর সুধীর গুপ্ত বলেন, “চিকিৎসক প্যানেলের সিদ্ধান্ত তথ্যপ্রমাণের উপর নির্ভর করে নির্মিত হবে। স্পষ্ট এবং স্বচ্ছ ভাবে জানানো হবে সব কিছু। শুধু ছবি দেখে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে না কখনওই।”

সূত্রের খবর, গত চল্লিশ দিন ধরে সিবিআই তদন্ত করে যে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করেছে সুশান্ত মৃত্যুরহস্য নিয়ে, তার সঙ্গে সোমবার এইমসের চিকিৎসকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে ফের তদন্ত শুরু হবে।

সুশান্তর মৃত্য়ুর পরে অবশ্য প্রথম থেকেই খুনের করে আসছে তাঁর পরিবার। সুশান্তর প্রেমিকা রিয়ার বিরুদ্ধে পাটনার রাজেন্দ্র নগর থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন সুশান্তের বাবা কেকে সিং। নিজের এফআইআরে তিনি আর্থিক প্রতারণা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা-সহ একাধিক অভিযোগ এনেছিলেন রিয়ার বিরুদ্ধে। রিয়া ছাড়াও তাঁর বাবা, মা, ভাই-সহ মোট ৬ জনের নাম ছিল ওই এফআইআরে। সুশান্তের বাবার এফআইআর-এর পর মুম্বই পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নামে বিহার পুলিশ। সে নিয়ে প্রচুর জলঘোলাও হয়েছে। অবশেষে বহু কাঠখড় পোড়ানোর পর সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More