বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

সিটিজেনশিপ বিল নিয়ে ধুন্ধুমার ত্রিপুরায়, ভাঙচুর, আগুন, গুলি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবারই লোকসভায় পাশ হয়েছে সিটিজেনশিপ বিল। এরপরই ত্রিপুরায় বিক্ষোভ দেখাতে নামে তুইপ্রা ছাত্রদের সংগঠন । রাজ্যের নানা জায়গায় ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে। তারা আট নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ গুলি চালায়।

সিটিজেনশিপ বিলে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনটি বদলানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানরা এদেশে ছ’বছর থাকার পরেই নাগরিকত্ব পাবেন। এখন তাঁরা ১২ বছর এদেশে থাকার পরে নাগরিকত্ব পান।

সিটিজেনশিপ বিলের প্রতিবাদে এদিন পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতে বন্‌ধের ডাক দেয় স্থানীয় ছাত্র সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ এনইএসও। তার সদস্য হিসাবে ত্রিপুরায় বন্‌ধ সফল করাতে নামে তুইপ্রা স্টুডেন্টস ফেডারেশন। নানা স্থানে পিকেটিং করে তারা বন্‌ধের সমর্থনে প্রচার চালাতে থাকে। খুমুলয়াং শহরের নানা জায়গায় বিক্ষোভকারীরা দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশের দিকে লাঠি ও বোতল ছুঁড়তে থাকে। ওয়েস্ট ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার অজিত প্রতাপ সিং বলেন, উত্তেজিত জনতাকে হটানোর জন্য পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে শূন্যে গুলি চালায়।

তাঁর কথায়, আমরা জনতাকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছিলাম, জাতীয় সড়ক অবরোধ করা বেআইনি। কিন্তু তারা কথা শোনেনি। উলটে পুলিশের দিকে পাথর ও বোতল ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও শূন্যে গুলি চালায়।

অন্য একটি সূত্রে খবর, বিক্ষোভকারীদের অন্তত ছ’জনের শরীরে গুলি লেগেছে। তাঁদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় এডিসি হাসপাতালে। পরে তাঁদের জি বি পন্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে পুলিশ গুলি চালিয়েছে, সেই মাধববাড়ি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ত্রিপুরার বিজেপি-আইপিএফটি সরকার আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য এসএমএস এবং মোবাইলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখেছে।

রাজ্যের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রসচিব শরদিন্দু চৌধুরি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ওয়েস্ট ত্রিপুরা জেলার জিরানিয়া থানার অন্তর্গত নানা এলাকায় এদিন দাঙ্গাহাঙ্গামা ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার নানা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যায়। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলার গুরুতর অবনতি হতে পারত। হোয়াটস অ্যাপ, টুইটার ও ইউ টিউবকে ব্যবহার করে অনেকে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। সেজন্যই এসএমএস ও মোবাইলে ইন্টারনেট পরিষেবা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছে। কেউ এই আইন ভাঙলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮ নম্বর ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

 

Shares

Comments are closed.