বুধবার, মার্চ ২০

রিপোর্ট পেতে ঘুরতে হয় দিনের পর দিন! মেডিক্যাল কলেজে বিক্ষোভ রোগীর আত্মীয়দের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের রোগী পরিবারের বিক্ষোভের মুখে পড়ল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ। হল কলেজ স্ট্রিট অবরোধও। এবার অভিযোগ, রিপোর্ট দিতে দেরি করছে মেডিক্যাল কলেজের সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি।

সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ-অবরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, যে চাপে পড়ে বিকেল পাঁচটাতেও খোলা হয় সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি। লাইন দিয়ে রিপোর্ট তোলেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, এই সমস্যা এক দিনের নয়। বহু দিন ধরেই ল্যাবরেটরি কর্তৃপক্ষের হেনস্থার শিকার সাধারণ মানুষ। কর্মীদের গড়িমসি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বহু কঠিন অসুখের রিপোর্ট আটকে থাকায় চিকিৎসা শুরু হচ্ছে না অনেকের। দূর থেকে আসা মানুষের বারবার ভুগছেন।

বুধবার বিকেলে সওয়া চারটে নাগাদ মেডিক্যাল কলেজের তিন নম্বর গেটের কাছে কলেজ স্ট্রিট অবরোধ করেন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এলে, বচসা শুরু হয় তাদের সঙ্গেও। শেষমেশ পুলিশের উপস্থিতিতে বিকেলে ফের খোলা হয় কাউন্টার। ফিরিয়ে দেওয়া অনেক পরিজন রিপোর্ট পেলেন আজ।

অবশ্য তাতেও শান্ত হয়নি পরিস্থিতি। উল্টে রোগী পরিবারের প্রশ্ন, রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনীয় রিপোর্ট পেতেও কি তা হলে বিক্ষোভ রাস্তা অবরোধ করতে হবে? পরীক্ষা করালে তো রিপোর্ট এমনিই পাওয়ার কথা। তা হলে কেন এত বার ফিরে যেতে হবে! কেনই বা বিক্ষোভ করার পরে খোলা হবে কাউন্টার? যাকে রিপোর্ট পাওয়া যাবে না বলে দুপুরেই ফিরিয়ে দেওয়া হল, তাঁকেই আবার কী ভাবে বিকেলে রিপোর্ট দিয়ে দেওয়া হল?

মেডিক্যাল কলেজের কর্মীরাই বলছেন, এই প্রথম সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরিতে বিকেল পাঁচটার পরেও রিপোর্ট দেওয়া হল। এর আগেও অনেক বিক্ষোভ দেখেছে মেডিক্যাল– চিকিৎসায় গাফিলতি থেকে শুরু করে নার্সদের অবহেলা। কিন্তু রিপোর্ট পাওয়ার দাবিতে এমন বিক্ষোভ এই প্রথম দেখা গেল।

এক রোগীর পরিবারের সদস্য নুনিয়া বিবির অভিযোগ, “এক মাস ধরে ঘুরছি রিপোর্টের জন্য। আজ ঝামেলার পরে পেলাম। আমার মায়ের চিকিৎসা আটকে আছে রিপোর্টের জন্য।” আর এক রোগীর আত্মীয় তিথি দাস বলেন, “এখানকার কর্মীদের দুর্ব্যবহার যে কোন পর্যায়ে, তা কেউ না এলে বুঝবেন না। চরম অসভতা করে। রিপোর্ট দেয় না। বলে, পরের সপ্তাহে আসুন। অথচ ভিতরে আমাদের চোখের সামনেই হাসি, মস্করা, টিফিন খাওয়া– সবই হয়।” 

মেডিক্যাল কলেজের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই সেন্ট্রাল ল্যাবেটরির বিরুদ্ধে গাফিলতি ও গড়িমসির অভিযোগ আসছে। ঠিক কী কারণে এমনটা হচ্ছে, জানি না। আজ রিপোর্ট পাওয়ার দাবিতে রোগীর পরিজনদের রাস্তায় নামতে হল। এটা খুবই দুৰ্ভাগ্যজনক। যথাযথ তদন্ত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Shares

Comments are closed.