বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

ছেলের বয়স বেশি, রোজগারও কম, তাই বিয়েতে মত দিইনি, বললেন বিজেপির সেই বিধায়ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বাড়ির অমতে দলিত ছেলেকে বিয়ে করেছে মেয়ে। তাই উত্তরপ্রদেশের বরেলির বিজেপি বিধায়ক রাজেশ মিশ্র নাকি গুন্ডা লাগিয়ে মারতে চাইছেন মেয়ে-জামাইকে। তাঁর মেয়ে সাক্ষী মিশ্র নিজে একটি ভিডিওতে বলেছে, বাবা আমাদের পিছনে গুন্ডা লাগিয়েছেন। আমরা লুকিয়ে আছি। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হয়েছে। প্রথমে মেয়ের বক্তব্যের ভিত্তিতে মতামত দিতে চাননি বিধায়ক। পরে বলেছেন, জাতপাত নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। কিন্তু ছেলেটি সাক্ষীর থেকে বয়সে অনেক বড়। সে বিশেষ রোজগারও করে না। সেজন্যই আপত্তি করেছিলেন।

রাজেশ মিশ্রের কথায়, আমি মেয়ের বিয়েতে বাধা দিইনি। ছেলেটি সাক্ষীর থেকে ন’বছরের বড়। বাবা হিসাবে আমি মেয়ের ভবিষ্যতের কথাও ভেবেছিলাম। ছেলেটি বেশি রোজগার করে না।

মেয়েকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উড়িয়ে তিনি বলেন, আমি কখনও তার ক্ষতি করার কথা ভাবতেই পারি না। আমি চাই মেয়ে-জামাই বাড়ি ফিরে আসুক। আমি দলের হাই কম্যান্ডকেও সব কথা জানিয়েছি।

সাক্ষীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে বিজেপির ওই বিধায়ক বিবৃতি দিয়ে বলেন, সাক্ষী প্রাপ্তবয়স্ক। সে নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমি বা আমার পরিবারের কেউ তাকে ভয় দেখাইনি। আমি নিজের নির্বাচন কেন্দ্রে উন্নয়নের কাজ নিয়ে ব্যস্ত।

২৩ বছরের সাক্ষী বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও পোস্ট করে জানান, তিনি অজিতেশ কুমারকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু বাবার জন্য তাঁর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি পুলিশের কাছে আবেদন জানান, তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হোক।

তাঁর কথায়, আমি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছি। আমার বাবা আমাদের পিছনে গুন্ডা লাগিয়েছেন। আমরা পালিয়ে বেড়াতে বেড়াতে ক্লান্ত।

অপর একটি ভিডিওতে সাক্ষী ও অজিতেশ কুমারকে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়। সেখানে সাক্ষী বলেছেন, যদি তারা আমাদের ধরতে পারে, নিশ্চয় মেরে ফেলবে। অজিতেশ কুমার বলেন, আজ সকালে একটুর জন্য বেঁচে গিয়েছি। আমরা যে হোটেলে ছিলাম, সেখানে একদল লোক হানা দিয়েছিল।

অজিতেশের অভিযোগ, তিনি যেহেতু দলিত, তাই সাক্ষীর পরিবার সম্মান রক্ষার্থে তাঁদের খুন করতে চায়। সাক্ষী বরেলির অপর বিধায়ক ও সাংসদদের অনুরোধ করেন, আপনারা কেউ আমার বাবাকে সাহায্য করবেন না।

Comments are closed.