মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

বৌবাজারের বিপদ কাটছেই না! ঘরে ফেরার সিদ্ধান্ত হতেই ফের ফাটল ধরা পড়ল পাঁচটি বাড়িতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৌবাজারের ২৭টি পরিবারকে পুজোর আগে নিজের বাড়ি ফেরানো সম্ভব হতে পারে বলে সবে জানা গিয়েছিল সরকারি তরফে। অন্য পাঁচটি পরিবারকে ফ্ল্যাটে রাখার বন্দোবস্ত সবে করেছে কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড। বৃহস্পতিবার তাঁদের হোটেল থেকে ভাড়া করা ফ্ল্যাটে নিয়েও যাওয়া হয়। তার পরেই আজ, শুক্রবার ফের নতুন করে ফাটল দেখা দিল বৌবাজারের আরও পাঁচটি বাড়িতে। বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের ওই বাড়িগুলি অবশ্য আগেই খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল কেএমআরসিএল। প্রসঙ্গত, ওই পাঁচটি বাড়ির মধ্যেই রয়েছে রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী তাপস রায়ের ফ্ল্যাটটিও।

বিপর্যস্ত এলাকার বাড়ির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য কেএমআরসিএলের তরফে যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়া হয়েছিল, তারা তাদের প্রথম রিপোর্ট বুধবার রাতে জমা দেয়। রিপোর্ট অনুযায়ী ৭২টি বাড়ির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরে তার মধ্যে ২৭টি বাড়িকে ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয় কমিটির তরফে। কয়েকটি বাড়ি ইতিমধ্যেই ভাঙা শুরু হয়েছে।

আরও ২৭টি বাড়ি এই ঘটনার ফলে কোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে বিশেষজ্ঞ কমিটি জানিয়েছে। সেখানেই পুজোর আগে ফেরানো হতে পারে বাসিন্দাদের। তবে আর ১৬টি বাড়ি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি তারা। বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার যে বাসিন্দারা ভাড়া করা অন্য ফ্ল্যাটে থাকতে ইচ্ছুক, তাদের ফ্ল্যাটে রাখার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পাঁচটি পরিবারকে এ দিন ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি পরিবার যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

এর মধ্যেই ফের এল দুঃসংবাদ। জানা গিয়েছে, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের ৯২ সি, ৯৩ / ১ এ, ১০৫, ১০৩ এবং ১০৬ নম্বর বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ১০৫ নম্বর আবাসনটি পরিষদীয় মন্ত্রী তাপস রায়ের। এর পরে কী হবে, সেই আতঙ্কেই রয়েছে আবাসনগুলির বাসিন্দারা।

এ দিনও দুর্গা পিথুরি লেন এবং স্যাকরাপাড়া লেনে ভাঙা বাড়ির ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। একই সঙ্গে কমিটি চিহ্নিত বিপজ্জনক বাড়িগুলি ভেঙে ফেলার কাজও চলতে থাকে। সকলেই চাইছেন, তাড়াতাড়ি এ সব কাজ শেষ হয়ে কোনও একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছতে।

চলতি মাসের গোড়ায় ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সম্প্রসারণের কাজের জন্য মাটির তলা দিয়ে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার সময়ে ভেঙে পড়েছিল বৌবাজার এলাকার একাধিক বাড়ি। রাতারাতি খালি করে দেওয়া হয়েছিল গোটা এলাকা। এর পরেই বৌবাজারের বাড়িগুলির  হাল-হকিকত জানতে তৈরি হয়েছিল বিশেষজ্ঞ কমিটি।

সয়েল স্পেশ্যালিস্ট নীতিন সোমের নেতৃত্বে কেএমআরসিএলের তরফে এই বিল্ডিং কমিটি তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে রয়েছেন ডঃ সোমনাথ ঘোষ, ডঃ অমিতাভ ঘোষ, চেন্নাই আইআইটি-র ডঃ এল কে পিছুমনি, এবং মিঃ কেনওয়াং। পাঁচ জনের এই কমিটির তত্ত্বাবধানে বৌবাজার এলাকায় মোট ৭৪টি বাড়ির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় সম্প্রতি। বুধবার রাতেই সেই রিপোর্ট জমা পড়ে কেএমআরসিএলের কাছে।

কেএমআরসিএলের জেনারেল ম্যানেজার এ কে নন্দী বলেন, ”বিল্ডিং সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট জমা পড়েছে। ২৭টি বাড়ি ভেঙে ফেলা হবে বলে ঠিক হয়েছে। পাশাপাশি, অন্য ২৭টি বাড়ির বাসিন্দাদের নিজের বাড়িতে ফেরানো হবে। এর বাইরে ১৬টি বাড়ি নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি, এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”

কিন্তু বাসিন্দাদের প্রশ্ন একটাই, কবে হবে সিদ্ধান্ত! তার আগেই আরও পাঁচটি বাড়িতে ফাটল। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হচ্ছে তো? সংশয় রয়েই যাচ্ছে সকলের মনে।

আরও পড়ুন…

পুজোর আগেই সিদ্ধান্ত বৌবাজারে! ভাঙা হবে ২৭টি বাড়ি, নিজের বাড়ি ফিরবে ২৭টি পরিবার

Comments are closed.