ফের করোনায় মারা গেলেন কলকাতার চিকিৎসক, বেসরকারি হাসপাতালে সর্বস্বান্ত পরিবার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ফের মৃত্যু হল আরও এক চিকিৎসকের। করোনা সংক্রমণ প্রাণ কেড়ে নিল তাঁর। জানা গেছে, শনিবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬৫ বছরের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সীতাংশু শেখর পাঁজার মৃত্যু হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রের খবর, মেডিক্যাল কলেজের আগে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৮ দিন ধরে। সেই হাসপাতালেরই চিকিৎসক ছিলেন সীতাংশু বাবু নিজেই। তবু চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে যায় ওই চিকিৎসকের পরিবার।

জানা গেছে, হাসপাতালের বিল হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় তার পরিবার শেষমেশ দ্বারস্থ হয় স্বাস্থ্য ভবনের। স্বাস্থ্য ভবনের হস্তক্ষেপের পরে তাঁকে যাওয়া হয়েছিল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। করোনার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শনিবার সেখানেই মৃত্যু হয় এই প্রবীণ চিকিৎসকের।

ঘটনার কথা সামনে আসার পরে বিস্মিত হয়েছেন সকলে। অভিযোগ উঠেছে, করোনা আক্রান্ত চিকিৎসককে তাঁর নিজের হাসপাতালে রেয়াত করেনি। সীতাংশুবাবু সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে অবসর নিয়েছিলেন ৫ বছর আগে। তার পরে ওই চিকিৎসক দমদম নাগেরবাজার এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতেন। ২৬ জুন অসুস্থ হওয়ার পরে সেখানেই ভর্তি হন তিনি। দু’বার ভেন্টিলেশনে দিতে হয় তাঁকে। তার পরেই ২৮ দিনে বিল হয়েছে ২৩ লক্ষ টাকা।

জানা গেছে, চিকিৎসকের পরিবার এই বিশাল বিল মেটাতে না পেরে যোগাযোগ করে স্বাস্থ্য ভবনে। শেষে স্বাস্থ্য ভবনের মধ্যস্থতায় ১৬ লক্ষ টাকায় রফা হয় ওই বেসরকারি হাসপাতালে। এর পরে সেখান থেকে বের করে ২৪ জুলাই নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাক্তনী এই চিকিৎসক প্রায় ১৮ বছর চিকিৎসকের কাজ করেছেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। একজন চিকিৎসক যিনি নিজে এভাবে এত বছর পরিষেবা দিয়েছেন তিনি এইভাবে তাঁর নিজেরই প্র্যাকটিস করা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে গেলেন– এমন ঘটনা সম্ভবত এই প্রথম প্রকাশ্যে এল।

তবে এর পরেও শেষরক্ষা হল না, শেষমেশ অভিজ্ঞ চিকিৎসকের প্রাণ কেড়ে নিল করোনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More