বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

কর্ণাটকের পর গোয়ায় সংকটে কংগ্রেস, ১৫-র মধ্যে ১০ বিধায়ক যেতে পারেন বিজেপি-তে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকে জেডিএস-কংগ্রেস জোট সরকার যখন সুতোয় ঝুলছে, তখনই গোয়ার কংগ্রেসে জোর ধাক্কা। সমুদ্র তীরের ছোট্ট রাজ্যটির ১৫ জন কংগ্রেস বিধায়কের মধ্যে ১০ জন বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন বলে খবর।

গত মাসেই শোনা গিয়েছিল গোয়ার ১০ কংগ্রেস বিধায়ক গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু সে সময়ে গোয়ার বিজেপি রাজ্য সভাপতি বিনয় তেণ্ডুলকর সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন, “কংগ্রেসের ১০ বিধায়ক বিজেপি-তে যোগ দিতে চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের দল তা প্রত্যাখ্যান করেছে।” কংগ্রেস যদিও সে সময় অভিযোগ তুলেছিল, বিজেপি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিধায়কদের ভাঙাতে চাইছে।

জুলাই মাস পড়তেই বদলে গেল ছবি। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ১০ কংগ্রেস বিধায়কের বিজেপি-তে যোগদান এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। গোয়ায় বিজেপি এবং গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির জোট সরকার রয়েছে। ৪০ আসনের গোয়া বিধানসভায় বিজেপি-র বিধায়ক সংখ্যা আপাতত ১৭। গত বছরই অক্টোবর মাসে দুই কংগ্রেস বিধায়ক সুভাষ শিরোদকার এবং দয়ানন্দ সপতে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। মনোহর পারিক্করের মৃত্যুর পর গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী হন প্রমোদ সাওয়ান্ত। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ১০ বিধায়ক গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলে, আরও শক্ত হবে বিজেপি-র খুঁটি।

প্রসঙ্গত, গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের পর একক বৃহত্তম দল ছিল কংগ্রেসই। কিন্তু তাদের না ডেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপাল সরকার গড়তে ডেকেছিল বিজেপি, জিএফপি জোটকেই। ওই উদাহরণ নিয়েই গতবছর কর্ণাটকের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল কংগ্রেস। কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএস-এর মিলিত আসন বেশি হলেও একক বৃহত্তম দল ছিল বিজেপি। রাজ্যপাল বাজুভাই বালা ইয়েদুরাপ্পাকে ডেকে সরকার গঠনের অনুমতি দেন।

কংগ্রেস আদালতে দাবি করে, গোয়ায় যদি একক বৃহত্তম দলকে ডাকা না হয়, তাহলে কর্ণাটকে কী ভাবে তা হল? ভারতের সংবিধান তো একটাই। এক এক রাজ্যের জন্য একএক রকম নিয়ম হতে পারে? তারপর আদালতই নির্দেশে দেয় আস্থাভোটের। আড়াই দিনের মাথায় পড়ে যায় ইয়েদুরাপ্পার সরকার। কিন্তু বছর ঘুরতেই উলট পুরাণ। কর্ণাটকের মতোই গোয়ার কংগ্রেসও ঘোর সংকটে।

Comments are closed.