রবিবার, মার্চ ২৪

ডিভোর্সের পর অত্যধিক ধূমপান, ওয়ার্কআউটে অনীহা বাড়াচ্ছে মৃত্যুর হার !

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোজ সকালে ওয়ার্কআউট করার অভ্যাস আপনার বহুদিনের। বিয়ের পর থেকে সঙ্গী হতেন স্ত্রীও। কিন্তু মাস কয়েক আগে ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে আপনাদের। মতের মিল হচ্ছিল না। তাই অশান্তি এড়াতে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আপনারা। কিন্তু এতদিনের সম্পর্ক কী এক লহমায় ভোলা যায়? তায় আবার আপনাদের ‘লাভ ম্যারেজ’।

আর অদ্ভুত ভাবেই আপনি লক্ষ্য করছেন ডিভোর্সের পর থেকেই ওয়ার্কআউটের প্রতি প্রবল অনীহা দেখা দিয়েছে আপনার। এখন সঙ্গে স্ত্রী নেই যে সাত সকালে ঠেলেঠুলে উঠিয়ে দেবেন। আর এর সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সিগারেটের প্রতি আসক্তি। এই কয়েক মাসেই কার্যত চেন স্মোকার হয়ে গিয়েছেন আপনি।

আর সিগারেটের প্রতি এই আসক্তি এবং ওয়ার্কআউটের প্রতি অনীহা আপনাকে মৃত্যুর দিকে খানিকটা এগিয়ে দিচ্ছে। অন্তত সমীক্ষা তাই বলছে। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে সাধারণ ডিভোর্সের পর নারী-পুরুষ দু’জনের মধ্যেই শারীরিক এক্সারসাইজের প্রতি অনীহা দেখা যায়। আসক্তি বেড়ে যায় সিগারেটের প্রতিও। এর ফলে খানিকটা আয়ু কমে যায়। কার্যত জেনে শুনে নিজেকে মৃত্যুর পথে আরও খানিকটা এগিয়ে দেন সদ্য ডিভোর্সিরা।

সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি ডিভোর্সি মানুষের উপর এই সমীক্ষা করা হয়েছিল। এঁদের মধ্যে অনেকেই আবার বিয়ে করেছিলেন। কিংবা জড়িয়েছিলেন কোনও সম্পর্কে। যারা নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছেন তাঁদের নিয়ে কোনও সমস্যায় নয়। কিন্তু এই সমীক্ষার মধ্যে ছিল এমন কিছু মানুষ যাঁরা আর বিয়ে করেননি। এমনকী কোনও সম্পর্কেও জড়াননি। আর দেখা গেছে এই সব বিচ্ছিন্ন হওয়া মানুষগুলোর মধ্যেই মৃত্যুর হার তুলনায় বেশি। বিবাহিত কিংবা সম্পর্কে থাকা জুটির তুলনায় ডিভোর্সের পর একা থাকা মানুষদের মধ্যে মৃত্যুর হার প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি।

অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণার প্রধান গবেষক কেইলি বলেছেন, বিয়ে মানে একটা আত্মিক বন্ধন। আর তাই ডিভোর্সের পর সাময়িক ধাক্কাটা সামলাতে কমবেশি সবারই কিছু অসুবিধা হয়। প্রবল মানসিক চাপে অনেকেই নিয়ে ফেলেন বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত। নেশাসক্ত হয়ে পড়েন অনেকেই। মানসিক ছাপ থেকে ক্রমাগত অত্যাচার চালাতে থাকেন নিজের শরীরের উপর। আর অজান্তেই নিজেকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেন।

Shares

Leave A Reply