প্রায় ন’দশক পরে শহরের পথঘাট মুখরিত হল ঘোড়ার ক্ষুরের শব্দে! ফিরতে চলেছে মাউন্টেড পুলিশ বাহিনী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগে তাদের শহরের রাস্তায় দেখা যেত প্রায়ই। টগবগিয়ে পথে পথে ধুলো উড়িয়ে টহল দিত তারা। কিন্তু ভিড় বাড়তে থাকায়, পথঘাটের পরিসর কমে যাওয়ায়, যানবাহন বেড়ে যাওয়ায় ক্রমে কমতে কমতে হারিয়েই যায় তারা। তাদের পোশাকি নাম, মাউন্টেড পুলিশ। অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়া পুলিশ। মুম্বইয়ের পথেঘাটে সে পুলিশের ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য শেষ দেখা গিয়েছিল প্রায় নয় দশক আগে।সেই স্মৃতিই ফিরে এল রবিবার। ৮৮ বছর পরে রাস্তায় টহল দিল তারা। আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশগ্রহণ করবে এই মাউন্টেড পুলিশ, তারই মহড়া চলল দিনভর।

    রবিবার মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ জানান, ১৯৩২ সালের পরে এই প্রথম শহরের রাস্তায় ফিরল মাউন্টেড পুলিশ। ৮৮ বছর আগে এই ঘোড়ার ক্ষুরের আওয়াজে প্রায়ই সচকিত হতেন আমচি মুম্বইয়ের বাসিন্দারা। সেই অভ্যেস কি আবার ফিরতে চলেছে? প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে সে পুলিশের উপস্থিতি কি তারই ইঙ্গিত? একথাই কার্যত নিশ্চিত করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    অনিল দেশমুখের মতে, শহরে মাউন্টেড পুলিশের এখনও প্রয়োজন আছে। কারণ এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে গাড়ি চলাচল করতে পারে না এখনও। সেসব জায়গায় কোনও অপরাধ হলে মাউন্টেড পুলিশ সহজেই ঘোড়া হাঁকিয়ে পৌঁছে যেতে পারবে। ফলে যানবাহন যতই বাড়ুক, যতই দ্রুত হোক ট্র্যাফিক, কোনও কোনও পরিস্থিতির জন্য মাউন্টেড পুলিশই অপরাধ দমনের আদর্শ বাহন। এছাড়াও, উৎসবের সময়ে বা সমুদ্র সৈকতে টলদারির জন্যও উপযুক্ত এই ঘোড়সওয়ার বাহিনী। কারণ ঘোড়ার পিঠের ওপর থাকায় উঁচু থেকে অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পাবে পুলিশ। ৩০ জন পদাতিক বাহিনী যা করতে পারে, তা এক জন মাউন্টেড পুলিশের পক্ষে করা সম্ভব।

    মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, শুধু মুম্বই নয়। পুণে, নাগপুরের মতো শহরেও আস্তে আস্তে চালু করা হবে এই মাউন্টেড পুলিশের বাহিনী। তাই আগামী ছ’মাসের মধ্যেই মহারাষ্ট্র পুলিশে আনা হবে আরও ৩০টি ঘোড়া এবং ৩২ জন ঘোড়সওয়ার কনস্টেবল। আসবেন এই বাহিনীর বিশেষ সাব-ইনস্পেক্টর এবং পিএসআই-ও।

    অনিল দেশমুখ আরও জানান, এখন প্রজাতন্ত্র দিবসে পারফরমেন্সের উদ্দেশে ১৩টি ঘোড়া কেনা হয়েছে। আগামী ছ’মাসে কেনা হবে আরও বেশি ঘোড়া। সেগুলিকে রাখার জন্য আন্ধেরির মারোলে আড়াই একর জমির উপর  আস্তাবলও তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পুরাতন স্মৃতি ফেরার পরে শহরবাসী তা কেমন ভাবে গ্রহণ করেন, সেটাই এখন দেখার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More