আফগানিস্তানে তালিবানের সঙ্গে তিনটি ট্রেনিং ক্যাম্প চালাচ্ছে জৈশ, জানা গেল আচমকাই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : আফগানিস্তানে তালিবানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে আচমকা খোঁজ মিলল জৈশ ই মহম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরের। সোমবার রাতে আফগান সেনা খবর পায়, নাংধের প্রদেশে ট্রেনিং ক্যাম্প চালাচ্ছে তালিবান। সেখানে মহম্মদ দারা অঞ্চলে অবস্থিত ওই ক্যাম্পগুলিতে সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। দু’পক্ষে দীর্ঘক্ষণ গুলিবিনিময় চলে। চার আফগান সেনা মারা যায়। নিহত হয় ১৫ জঙ্গি। পরে আফগান সেনা জানতে পারে, মৃতদের মধ্যে ১০ জন ছিল জৈশ ই মহম্মদের সদস্য। কাশ্মীরে গিয়ে লড়াই চালানোর জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল।

    কাবুল থেকে দিল্লিকে জানানো হয়েছে, মৌলানা মাসুদ আজহারের নেতৃত্বাধীন জৈশ ই মহম্মদ আফগানিস্তানের নাংধের প্রদেশে তিনটি প্রশিক্ষণ শিবির চালাচ্ছিল। একইসঙ্গে চলছিল তালিবানের চারটি প্রশিক্ষণ শিবির। তালিবানের ঘনিষ্ঠ হাক্কানি নেটওয়ার্ক পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নেয়। তার বিনিময়ে জৈশকে আফগানিস্তানের নাংধের অঞ্চলে প্রশিক্ষণ শিবির চালাতে দিয়েছিল তালিবান।

    ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে আছেন মৌলানা মাসুদ আজহার। তিনি এখন অসুস্থ। পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে জৈশের সদর দফতরে থাকেন। তাঁর ভাই মুফতি রউফ আসগর জৈশকে পরিচালনা করেন। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, রউফ আসগরের ছেলে ওয়ালি আসগর আফগানিস্তানের এক ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সেই ক্যাম্প চালায় হরকত উল মুজাহিদিন নামে এক সংগঠন। তাদের নেতার নাম মুফতি আসগর কাশ্মীরি।

    আমেরিকা গত মাসে আফগানিস্তান থেকে সেনা সরাতে শুরু করেছে। গত মাসে তালিবানের সঙ্গে আমেরিকার শান্তিচুক্তি সই হয়। এর পরেও অবশ্য হেলমুন্দ প্রদেশে তালিবান জঙ্গিরা আফগান সরকারের সেনাকে আক্রমণ করে। তার বদলা হিসাবে মার্কিন সেনা তালিবানের ওপরে বিমান আক্রমণ চালায়।

    ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালিবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল আমেরিকা। প্রায় ১৯ বছর বাদে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার প্রস্তুতি চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। শান্তি আলোচনায় বিঘ্নও ঘটেছে বারবার। গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে কাবুলে বিস্ফোরণে এক আমেরিকান সৈনিক ও আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়। সেই হামলার দায় স্বীকার করে তালিবান। তার পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তালিবানের সঙ্গে তাঁদের গোপনে যে শান্তি আলোচনা চলছিল, তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প ওই মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তালিবান জানায়, শান্তি আলোচনা বন্ধ করায় আরও বেশি আমেরিকানের মৃত্যু হবে।

    গত বছরে আমেরিকার মেরিল্যান্ডে ক্যাম্প ডেভিডে তালিবানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল আমেরিকার প্রশাসন। কিন্তু সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, কাবুলে বিস্ফোরণের পরে তালিবানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান থামানোর প্রশ্নই নেই। তার জবাবে তালিবানের মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদ বলেন, আমেরিকা শান্তি আলোচনা চালানোর পাশাপাশি আফগানিস্তানে আক্রমণও চালাচ্ছিল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More