মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯

নম্বর যেন স্বপ্নপূরণের বাধা না হয়! শহরের ছাত্রছাত্রীদের আশার আলো এডুমোটিভ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেক সময়েই দেখা যায়, কেউ হয়তো ছোটবেলা থাকেই চিকিৎসক হতে চায়। শুধু তাই নয়, এই পেশার প্রতি তার হয়তো যথেষ্ট আবেগ এবং আগ্রহ দুই-ই রয়েছে। হয়তো তার মধ্যে সেই সমস্ত মানবিক বোধ, চেতনা, গুণ– সবই যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে, যা তাকে ভবিষ্যতে এক জন ভাল ও দক্ষ চিকিৎসক করে তুলতে পারে। কিন্তু হয়তো সে অঙ্কে কাঁচা। ছোটবেলায় হয়তো তেমন নম্বরই পায় না অঙ্কে, সে কোনও কারণেই হোক। আর তাতেই হয়তো সব রকম গুণ থাকা সত্ত্বেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নের পথে কাঁটা পড়ে যায়।

এই জায়গাটাতেই নিচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ আশার আলোর দেখাচ্ছে এডুমোটিভ। শহরের এক নতুন কোচিং সেন্টার। কোচিং সেন্টারের ধারণা কলকাতা শহরে নতুন নয়। কিন্তু নতুন ধারণারও তো নতুন জন্ম হয়! সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘটে যায় বিবর্তন। বর্তমান বাজার চলতি জিনিসের ত্রুটি ও ফাঁকফোকর শুধরে নিয়ে তৈরি হয় নতুন ব্যবস্থা। এমনই নতুন ধারণা নিয়ে কলকাতার দুপ্রান্তে শুরু হচ্ছে এডুমোটিভ। তাদের একটি প্রতিষ্ঠান উত্তর কলকাতায়, অন্যটি দক্ষিণে। যারা বলছেএক এক জন পড়ুয়ার এক একটা অসুবিধা থাকলেও সেটা পরিষ্কার করার দায়িত্ব নেবে তারা।

এডুমোটিভ কর্তৃপক্ষ বলছেন, সম্প্রতি গোটা দেশের নিরিখে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, প্রতিযোগিতাই শেষ কথা। প্রতিটা বাচ্চা ছোটবেলা থেকেই একটা প্রতিযোগিতার মধ্যে ঢুকে পড়ছে। পড়াশোনা যে আনন্দের জন্য, শেখার জন্য– তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু তার পাশাপাশি, বর্তমান সময়ে বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীরই স্বপ্নপূরণের একটা প্রাথমিক ধাপ যে পড়াশোনা, সে নিয়েও একমত না হওয়ার উপায় নেই।

তবে এডুমোটিভ বলছে, এই ধাপ পেরোতে গিয়ে যে শীর্ষে থাকার প্রবণতা জন্ম নিচ্ছে বাচ্চাদের মধ্যে, তা এই প্রজন্মের বহু মানবিক বোধ, চেতনা, বিকাশের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। বিচ্ছিন্নতা তৈরি করছে। আর এর অন্যতম কারণ হল, প্রতিটা বাচ্চার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সমস্ত প্রতিভা, প্যাশন, দক্ষতার সঠিক বিকাশের সুযোগ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় পুরোপুরি মেলে না। এখনও পর্যন্ত ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বাইরে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা ভেবে উঠতে পারেনি।

কিন্তু আদতে, শিক্ষা একটি অনেক বড় বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্র, যেখানে আরও নানা বিষয়ের পাশাপাশি, আসল ফোকস ছিল শুধু শেখা। কিন্তু আমরা, ক্রমেই শিক্ষাকে আমাদের সমৃদ্ধির সঙ্গে সমানুপাতিক করে ফেলেছি। শিক্ষার সঙ্গে সমৃদ্ধির যোগ অবস্যই আছে। কিন্তু সেটাই একমাত্র নয়। অথচ আজ যা পরিস্থিতি, তাতে আমরা দেখছি, বিপণম ভিত্তিক শিক্ষা এই ধারণাটাকেই নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উৎপাদনশীলতা রীতিমতো হুমকির মুখে পড়ছে। প্রতিবেদনের শুরুতে উল্লেখ করা উদাহরণটি আর এক বার মনে করা যেতে পারে। অঙ্কের প্রতি অনীহা, নম্বর তুলতে না পারার হতাশা, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাওয়ার ভয়– এই সব কিছু কিন্তু এক জন ভবিষ্যৎ চিকিৎসককে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিতে পারে।

আসলে, সমস্ত বাবা-মা যদি চান, সক্কলের সন্তান সব ক’টা বিষয়ে সব সময় শীর্ষে থাকবে, তা এক কথায় অসম্ভব। মূঢ়তাও বটে। শিক্ষা কোনও একচেটিয়া পণ্য নয়, যে তা দক্ষতার বিনিময়ে দখল করে নেওয়া যাবে। এমনটা হয়ও না। অথচ এই ফাঁদেই পড়ে যায় অনেকে। এটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও, এটাই চূড়ান্ত নয়। কিন্তু এডুমোটিভ-ই প্রথম এক অনন্য ধারণা নিয়ে আসছে, যেখানে প্রতিটা ছাত্রছাত্রীর ইচ্ছে, স্বপ্ন, আগ্রহকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে নম্বরের পাশাপাশি।

এডুমোটিভ আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছে ক্লাস সিক্স থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত বয়সের ছেলেমেয়েদের। ক্লাস সিক্স এমন একটা সময়, যখন গড়পড়তা ছেলেমেয়েদের মধ্যে একটা প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয়, যে তারা কী হতে চায়, বা কী ভালবাসে। এবং তখন থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত সময়টাতেই পড়ুয়াদের সব চেয়ে বেশি যত্ন ও ফোকাস প্রয়োজন। প্রয়োজন গাইডেন্স। একমাত্র সঠিক গাইডেন্সই স্বপ্নের প্রতি ফোকাস ঠিক রেখে, পারিপার্শ্বিক সমস্যাগুলির মোকাবিলা করতে শেখাতে পারে। এই সময়টাতেই সব চেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকে, তীব্র প্রতিযোগিতার জাঁতাকলে স্বপ্নগুলি পিষে যাওয়ার। অথবা, স্বপ্ন তাড়া করতে গিয়ে বাস্তবের ধাপগুলি ভুল করে ফেলার।

এডুমোটিভ মনে করে, এমনটা যদি একটি বাচ্চার সঙ্গেও ঘটে, তবে তা শিক্ষার ব্যর্থতা। এমনটা হতে না দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়েই পথ চলা শুরু করেছে এডুমোটিভ। আর এর মূল হাতিয়ার হল, পড়াশোনার পদ্ধতি। যেখানে সিলেবাস একই, নম্বরের কাঠামোও একই, সেখানে ছাত্রছাত্রীদের কাছে তাকে সহজ করে তোলার একমাত্র উপায় হল, পড়ানোর পদ্ধতিতে বদল আনা।

তাই মন থেকে চিকিৎসক হতে চাওয়া অথচ অঙ্কে আপাত ভাবে ততটা তুখোড় নয়– এমন ছাত্র বা ছাত্রীটির কাছে আমরা অঙ্ক শেখার পদ্ধতিকে এমন ভাবেই উপস্থাপিত করব, যে তার কাছে সেটা ভীতি থাকবে না, বরং তার স্বপ্ন ছুঁতে চাওয়ার একটা জরুরি ধাপ হিসেবে সে নিজেই মোকাবিলা করবে। এডুমোটিভের শিক্ষকরা তাকে বোঝাবেন, কী ভাবে গাণিচিক প্যাটার্নের মধ্যে দিয়ে চলছে সব কিছু। তার আগ্রহ বাড়াবেন, ভয় কাটাবেন। নম্বরের পেছনে ঠেলে দেবেন না খালি হাতে। অঙ্ক শিখতে শিখতে, অভ্যস করতে করতে, নম্বরের লক্ষ্যে পৌঁছনোর যাত্রাটা তার কাছে একটা উপভোগ্য জার্নি হয়ে উঠবে।

শুধু অঙ্ককে উদাহরণ করে আজকের এই প্রতিবেদনে এডুমোটিভের বিশেষত্ব ব্যাখ্যা করা হলেও, প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রেই একই দায়িত্ব নেবে এডুমোটিভ। এবং তা শুরু হবে ক্লাস সিক্স থেকই। কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে কম নম্বর পাওয়া যেন কোনও ছাত্রছাত্রীকেই তার স্বপ্নের পথ থেকে না সরাতে পারে, সেই লক্ষ্যেই নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

সংস্থার হেড অব অ্যাকাডেমিক্স অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায় জানালেন, “সমস্ত বড় কোচিং সেন্টারেই সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ জন করে পড়ুয়া থাকে প্রতি ক্লাসে। এর ফলে দেড়-দুঘণ্টার ক্লাসে সকলের প্রতি আলাদা করে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না অনেক সময়েই। সেই সুযোগ রাখবেই না এডুমোটিভ। সেই সঙ্গেএই সেন্টারে ভর্তি হওয়ার খরচ বাজার চলতি অন্য সেন্টারগুলির চেয়ে কার্যত ৫০ শতাংশ কম বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। এর ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী ছেলেমেয়েরাও সেরা কোচিংয়ের সুযোগ পাবেন।

এডুমোটিভের আরও বড় একটি বিশেষত্ব হলপ্রতিটা ব্যাচের জন্য তিনটে করে আলাদা টাইমিং থাকবে। যাতে যে কোনও ছাত্রের যখন সুবিধাতখনই কোচিংয়ে আসতে পারেন। প্রতি দিনের ক্লাসের পরে আলাদা করে ডাউট ক্লিয়ারিং সেশন থাকবে। অর্থাৎ পড়ার সময়টা বাদ দিয়ে আলাদা করে সমস্যা বোঝানোর ও বোঝার সুযোগ পাবে পড়ুয়ারা। শুধু তা-ই নয়। এই প্রথম কলকাতার কোনও কোচিং সেন্টারে লাইব্রেরি থাকবে বলে জানালেন তিনি।

আপাতত শ্যামবাজার ও গোলপার্ক– শহরের এই দুটি প্রান্তে খোলা হচ্ছে এডুমোটিভ। অ্যাডমিশন চলছে। ভর্তি হওয়ার জন্য দিতে হবে প্রাথমিক একটি পরীক্ষা। তার পরেই পাওয়া যাবে স্মার্ট ক্লাসরুমে বসে কোচিং ক্লাস করার সুযোগ। মিলবে অডিও-ভিস্যুয়াল ব্যবস্থায় শেখার সুযোগ।

তা হলে আর দেরি না করে শুরু করে দিন প্রস্তুতি। এডুমোটিভের হাত ধরে। এই শহরে বসেই পড়াশোনা করেজাতীয় স্তরের বড় পরীক্ষার বৈতরণী পেরোনো অনেকটাই সহজ হতে পারে বলে আশ্বাস দিচ্ছে তারা।

এডুমোটিভ সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন: 9748692221 অথবা 9007042226

(বিজ্ঞাপন প্রতিবেদন)

Comments are closed.