শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

বুলবুল মোকাবিলায় তৎপর নবান্ন, এক গুচ্ছ পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শক্তি বাড়িয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করতে কোমর বেঁধে প্রস্তুত রাজ্য প্রশাসন। ইতিমধ্যেই উপকূলীয় জেলাগুলিকে চূড়ান্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই মৎসজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এদিন বুলবুলের মোকাবিলায় বৈঠক হয়েছে নবান্ন ও কলকাতা পুরসভায়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যেই সেই বার্তা এসেছে রাজ্য প্রশাসনের কাছে। কেন্দ্রের তরফেও সতর্ক করা হয়েছে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গকে। প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পি কে মিশ্র রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন দফায় দফায়।

দক্ষিণবঙ্গে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, কলকাতা এবং ঝাড়গ্রামের কিছু অংশে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে চলেছে। এই সাত জেলার সব বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৎপর কলকাতা পুলিশ এবং পুরসভাও।

ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বা সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্মের আকার নিয়েছে বুলবুল। শনিবারের মধ্যেই উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রমেই পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপকূলের দিকে এগোচ্ছে বুলবুল। তবে বারবার গতিপথ বদলানোয় উপকূলের ঠিক কোন এলাকায় আছড়ে পড়বে, তা এখনও নিশ্চিত নয় আবহবিদদের কাছে। তবে এ রাজ্যের সাগরদ্বীপ থেকে বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যে কোনও একটি জায়গায় স্থলভাগে আঘাত করার সম্ভাবনা।

দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, বকখালির মতো সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা থাকায় সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে পর্যটকদের। উদ্ধারের জিনিসপত্র ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তৈরি রয়েছে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম। শুরু হয়েছে ২৪ ঘণ্টার নজরদারি।

তৎপরতা কলকাতাতেও। পুরসভা এলাকায় বুলবুলের প্রভাবে গাছ উপড়ে বা ভেঙে পড়লে সেগুলি দ্রুত সরানোর জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পাম্পিং স্টেশনগুলি সচল রাখার ব্যবস্থা নিয়েছে পুরসভা।

উপকূলবর্তী এলাকার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এমন এলাকায় নাগরিকদের সচেতন করার কাজও শুরু করেছে রাজ্য। চলছে মাইক প্রচার।

আরও পড়ুন

বুলবুল আশঙ্কায় ছুটি, কাল বন্ধ থাকবে সাত জেলার সব স্কুল

Comments are closed.