শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪

হলদিয়ায় শিল্প সম্মেলন, শুভেন্দুকে দায়িত্ব দিলেন মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চে মধ্যমণি মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে বলার জন্য উঠে দাঁড়ালেন বণিক সমাজের এক প্রতিনিধি। হলদিয়ায় শিল্পের গ্রাফ উর্দ্ধমুখী হওয়া, দূষণ কমে যাওয়া নিয়ে একাধিক বক্তব্যের পরেই পরামর্শের সুরে, বাইরের রাজ্যের বণিক সমাজের প্রতিনিধিদের পূর্ব মেদিনীপুরের এই বন্দর শহর ঘুরিয়ে দেখানোর প্রস্তাব দিলেন মমতাকে। সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব দিয়ে দিলেন রাজ্যের পরিবহণ ও পরিবেশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। বললেন, “শুভেন্দু, তুমি একটু অমিতদা’র (অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র) সঙ্গে কথা বলে এখানে একটা শিল্প সম্মেলন করার ব্যবস্থা করো। আপনারাও আপনাদের বন্ধুবান্ধবদের বলুন।” গত এক বছরে ১৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাইপলাইনে রয়েছে আরও সাত হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। এই তথ্যটিও মুখ্যমন্ত্রী বললেন শুভেন্দুর এগিয়ে দেওয়া কাগজ দেখেই।

গত সপ্তাহে জঙ্গলমহলের তিন জেলা ও দুই বর্ধমানের জেলা সফর শেষ করে সোমবার থেকে ফের জেলা সফরে বেরিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিম মেদিনীপুর হয়ে আপাতত তিনি পূর্ব মেদিনীপুরে। বুধবার বাজকুলে সরকারি সভাও করেন মমতা। এ দিন দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকে সৈকত শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে বিশেষ জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেন, “ওখানে একশ জনকে কাজে লাগান। যাঁরা সৈকত পরিষ্কার রাখবেন। কিন্তু তাঁরা যেন কাজ করেন। ফাঁকি মারলে হবে না। আর কাজ না করলে যদি আমাদের কোনও নেতা বলে, চিন্তা নেই আমি সামলে নেব, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”

দিঘার জগন্নাথ ঘাট সৌন্দর্যায়নের ব্যাপারেও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এই যে লোকে পুরী দর্শনে যায়। সমুদ্র দেখে, রথও দেখে , কলাও বেচে আবার জগন্নাথ মন্দিরও দর্শন করে। এখানে যখন সুযোগ আছে তখন সেটা আমাদের করতে হবে।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রশাসনিক সভায় দাঁড়িয়ে বণিক সমাজের প্রতিনিধির এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে রাজ্যের ভাবমূর্তির পক্ষে ইতিবাচক। কয়েক বছর আগে হলদিয়া বন্দর থেকে এবিজি গোষ্ঠীর চলে যাওয়া নিয়ে জোর বিতর্ক হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। একদা এই হলদিয়ায় ছিল লক্ষ্মণ শেঠদের একাধিপত্য। সেই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনের আন্দোলনের নামে দাদাগিরিও চলত সমান তালে। অনেকে বলেন, হলদিয়ার দূর্গাচকের সিপিএমের দলীয় কার্যালয় থেকেই যা নিয়ন্ত্রণ করা হতো। কিন্তু এ দিন প্রশাসনিক সভায় স্থানীয় শিল্পপতি ও শিল্পকর্তাদের দাবি, হলদিয়া এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। হলদিয়া এখন কাজ ও ‘গ্রোথ’-এর জায়গা। 

Shares

Comments are closed.