শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬
TheWall
TheWall

ছিটমহল ঘুরে রাজনৈতিক নেতাদের একহাত নিলেন অপর্ণা সেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও রাজনৈতিক দলের উপরে তাঁর ভরসা নেই, তিনি কোনও দলাদলির মধ্যেও নেই – দু’দিন ধরে সাবেক ছিটমহল ঘোরার পরে এই মন্তব্য করলেন দৃশ্যতই বিরক্ত অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। তিনি বলেন, “নানারকম অশালীন মন্তব্য, বিরূপ মন্তব্য – এগুলো শুনতে হয় আমরা জানি। জেনেই এ কাজ করছি।… আমরা যারা সিটিজেন স্পিক ইন্ডিয়া থেকে এসেছি, আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। আমরা চাইছি সবকিছু রাজনৈতিক দলের উপরে ছেড়ে না দিতে। কারণ কোনও রাজনৈতিক দলের উপরে আমার ভরসা নেই। পশ্চিমবঙ্গে যে দলাদলি চলছে, আমি কোনও দলকে সমর্থন করি না। আমি শুধু মনে করি মানুষ হিসাবে আমার কিছু কর্তব্য আছে।”

দু’দিন ধরে মাসুমন নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনের হয়ে কোচবিহারে এসেছেন সিটিজেন স্পিক ইন্ডিয়ার তিন সদস্যের এক প্রতিনিধি দল, দলে রয়েছেন অপর্ণা সেন ও বোলান গঙ্গোপাধ্যায়। শনি ও রবিবার সাবেক ছিটমহল করলা-২ , বাকলিরছড়া ও এনক্লেভ সেটেলমেন্ট ক্যাম্প তাঁরা ঘুরে দেখেছেন। শুনেছেন সাবেক ছিটবাসীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা। সাবেক ছিটমহলের সমস্যার কথা শনিবারই তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। তবে রবিবার ছিলেন দৃশ্যতই বিরক্ত।

সাবেক ছিটমহল ঘুরে সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন অপর্ণা সেন। ছিটমহলগুলি ২০১৫  সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হলেও, এখনও সেখানে বিদ্যুৎ নেই। কাঁটাতারের বেড়ার এপারে যাঁরা থাকেন, তাঁরা নির্দিষ্ট সময় ছাড়া দরজা পার হতে পারেন না। এমনকি প্রসূতির জন্যও দরজা খোলায় কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে প্রসব করাতে হয়, নাড়ি কাটতে হয়েছিল কঞ্চি দিয়ে।

ভারতের নাগরিক হওয়ার পরেও ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা এখনও পাচ্ছেন না। কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে যে শিশুরা থাকে, তাদের এপারে স্কুলে আসতে হয়। কোনও কারণে দেরি হয়ে গেলে গেট বন্ধ হয়ে  যায়। তাই পড়ুয়ারা স্কুলেও যেতে চাইছে না। প্রথম দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই সব সমস্যার কথা বলেন অভিনেত্রী তথা চলচ্চিত্র পরিচালক অপর্ণা সেন। কয়েকদিন আগেই একটি চুইটে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, বিনায়ক দামোদর সাভারকর ক্ষমা প্রার্থনা করে চারবার ব্রিটিশদের চিঠি দিয়েছিলেন কিনা, কারণ তাঁকে ভারতরত্ন দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে মহারাষ্ট্রে বিজেপির ইস্তাহারে।

স্বভাবতই তিনি ছিটমহলে যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠতে থাকে। তাতেই বিরক্ত অপর্ণা সেন।

আগে তো আমাদের বাঙালি হতে হবে, তারপরই না ফিউশন: সনজীদা খাতুন

Comments are closed.