রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

মহানগরে অ্যাসিড হানার শিকার এবার পথ-কুকুর! ছবি দেখলেই শিউরে উঠবেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোজকার মতোই রবিবার সকালে বাজারে যাচ্ছিলেন দমদম ১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা সুব্রত গাঙ্গুলি। হঠাৎই চোখে পড়ে, বাসস্ট্যান্ডের কাছেই পড়ে কাতরাচ্ছে একটি পথকুকুর। পিঠে গভীর ক্ষত। পেশায় অভিনেতা ও পশুপ্রেমী সুব্রতবাবু এই দৃশ্য দেখেই থমকে যান। কুকুরটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তা করতে গিয়ে বুঝতে পারেন, সাংঘাতিক ভাবে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয়েছে সে অবোলা প্রাণীটির গায়ে। দিনভর চলে দৌড়াদৌড়ি। রবিবার রাতে সব চেষ্টা বিফল করে মারা যায় কুকুরটি।

মহানগরের বুকে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার কথা জেনে সিঁটিয়ে গিয়েছেন শহরবাসী। যে ভাবে কুকুরটিকে অ্যাসিডে পোড়ানো হয়েছে, সে ছবি দেখলে আক্রমণকারীর উপরে ঘৃণা জন্মাবে আপনারও। সুব্রতবাবুর মতোই সকলে একই কথা বলছেন– “এতটা নৃশংস হতে পারে মানুষ!”

সুব্রতবাবু বলেন, “আমি সকালে যখন ওভাবে পড়ে থাকতে দেখি কুকুরটিকে, তখনও ওর ক্ষত টাটকা। আমার অদ্ভুত লাগে, পিঠে কী করে অত বড় ক্ষত হল! আশপাশে খোঁজ নিই। সকাইকে জিজ্ঞেস করি, কেউ ঠিক করে বলতে পারেনি। কয়েক জন জানান, কোনও বাস হয়তো ঘষে দিয়েছে। কিন্তু আমার দেখেই মনে হয়েছিল, এটা বাসের বা গাড়ির ধাক্কা নয়।”

অভিনেতা সুব্রত গাঙ্গুলি

এর পরেই বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন সুব্রতবাবু। কিন্তু লাভ হয়নি। রবিবার হওয়ার কারণেই হোক বা অন্য যে কোনও কারণেই হোক, কারও কোনও রকম সাহায্য পাননি বলেই অভিযোগ সুব্রতবাবুর। এর মধ্যেই যোগাযোগ হয় ডগ স্কোয়াডে কর্মরত কুহেলিকা গোস্বামীর সঙ্গে। তিনি ঘটনাস্থলে এসে কুকুরটিকে দেখেন। এবং তিনিই দেখে আন্দাজ করেন, অ্যাসিড ঢালা হয়েছে কুকুরটির গায়ে।

সুব্রতবাবু জানান, এর পরে তিনি এবং কুহেলিকা দেবী দগ্ধ কুকুরটিকে নিয়ে যান মুকুন্দপুরের পশু হাসপাতাল আশারি-তে। কিন্তু তত ক্ষণে, স্থানীয় কেউ কুকুরটির ব্যথা উপশমের জন্য না বুঝেই ক্ষতয় হলুদ ঢেলে দেওয়ায়, সংক্রমণ আরও বিষিয়ে যায়। আশারি পৌঁছেও ভাল ভাবে ড্রেসিং করা সম্ভব হয় না। এমনিতেও যে বীভৎস আক্রমণের স্বীকার হয়েছিল কুকুরটি, তাতে তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ছিল না বললেই চলে।

“আরও ঘণ্টা দুয়েক কষ্ট পায় কুকুরটি। শেষে থেমে যায় লড়াই। চোখের সামনে দগ্ধে মারা গেল প্রাণীটি। আমাদের একটু কোথাও পুড়ে গেলে কত জ্বালা করে, সেখানে এরকম ভাবে অ্যাসিডে পুড়ে….”– বলেন সুব্রতবাবু।

তাঁর আরও অভিযোগ, এই প্রথম নয়। এই শহরের বেশ কিছু নৃশংস মানুষ এভাবে কুকুর খুন করে। প্রমাণের অভাবে কোনও পদক্ষেপ করা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রেও প্রতিহিংসা থেকেই কুকুরটিকে কেউ মেরেছে বলে অনুমান তাঁর। অনেক সময়ে রাতে কুকুর তাড়া করে, বা কোনও নির্দিষ্ট কারণে কোনও মানুষকে অপছন্দ করে ডাকাডাকি করে। এই রাগ থেকে অনেকেই কুকুরের উপর এরকম নৃশংস প্রতিশোধ নেয় বলে জানান তিনি।

সুব্রতবাবুর নিজের বাড়িতে ১২-১৩টি বিড়াল রয়েছে। এ ছাড়াও এলাকার সমস্ত পথ কুকুরের নিয়মিত দেখভাল করেন তিনি। অন্য বহু জায়গায় পথ কুকুরদের নিয়ে কাজ করেছেন। সেই জায়গা থেকেই আরওই বেশি মেনে নিতে পারছেন না এই নৃশংস কাণ্ড। অবোলা প্রাণীর উপর এই অত্যাচার মনুষ্যত্বের বিরোধী।

Comments are closed.