আদালতের হস্তক্ষেপ, অভিযোগকারিণীকেই বিয়ে করতে বাধ্য হল অভিযুক্ত! জেলেই হল অনুষ্ঠান

বিয়ের সাক্ষী থাকল বসিরহাট উপ-সংশোধনাগার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: অদ্ভুত এক বিয়ের সাক্ষী থাকল বসিরহাট উপ-সংশোধনাগার। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের পরে বাড়ির চাপেই বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল বছর আঠাশের মইদুল গাজি। তবে আদালতের রায়ে তার বাড়ির লোকজন মেনে বাধ্য হয় অভিযোগকারীর সঙ্গে বিয়ে দিতে। সেই বিয়েরই আসর বসেছিল বসিরহাট উপ-সংশোধনাগারে।

    হাসনাবাদ থানার চকপাটলি গ্রামের ২৮ বছরের যুবক মইদুল গাজি পেশায় শ্রমিক। একই গ্রামের ২৭ বছরের মমতাজ খাতুনের সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। মইদুল কথা দেয় যে সে মমতাজকে বিয়ে করবে। তারপরে বেশ কয়েক বার মমতাজের সঙ্গে সে সহবাস করে বলে অভিযোগ। এরপরে বিয়ে করার জন্য মইদুলকে চাপ দিতে শুরু করে মমতাজ। মইদুল সামান্য রাজি হলেও মমতাজকে বধূ হিসাবে একেবারেই মানতে নারাজ ছিল মইদুলের বাড়ির লোকজন। পরিবারের চাপে পড়ে মইদুল পিছু হটে। বিয়েতে সম্মতি দিয়েও মইদুল পিছু হঠায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে মমতাজ।

    মমতাজ ওই যুবকের বিরুদ্ধে হাসনাবাদ থানায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করা ও বিয়ে করতে অস্বীকার করার ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন। মমতাজের অভিযোগের ভিত্তিতে মইদুলকে গ্রেফতার করে হাসনাবাদ থানার পুলিশ। মইদুলকে বসিরহাট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

    বেকায়দায় পড়ে মইদুল ও তার পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়। বসিরহাট মহকুমা আদালতের বিচারক ইন্দ্রাণী দত্ত মহকুমার শাসক বিবেক ভাসমের নির্দেশে বিয়ের সবরকম আয়োজন শুরু হয়ে যায় জেল কম্পাউন্ডের ভিতরেই। জেলের ভিতরেই মমতাজকে বিয়ে করে মইদুল।

    কাজি দিন ইসলাম বৈদ্য এই বিয়ের কলমা পরান। মেয়ের হাতে মেহেন্দি, গলায় মালা কানে দুল, চন্দনের ফোঁটা আর ছেলের হাতে গলায় মালা ও মাথায় টুপি– শরিয়তের নিয়ম মেনেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরই মধ্যে সরকারি ভাবে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়। বিয়ের আসরে হাজির ছিলেন দুই পরিবারের লোকজনই।

    বিয়েতে অতিথি আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে এলাকার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি, আইনজীবী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। নিমন্ত্রিত ছিলেন এই সংশোধনাগারে বন্দি বাংলাদেশিরাও। খাদ্যতালিকায় ছিল ভাত, মুড়িঘণ্ট, বেগুনি, মাছ, চিকেন কষা, চাটনি, পাঁপড়, রসগোল্লা, সন্দেশ এবং পান।

    জেলের মধ্যে বিয়ে এবং এমন ভূরিভোজ – কয়েদিরাই বোধহয় সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন। জয়ী হল মমতাজের সাহসী লড়াই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More