কলকাতার ১৪ শতাংশেরও বেশি উপসর্গহীন মানুষের শরীরে মিলেছে করোনা অ্যান্টিবডি! বলছে আইসিএমআর-এর রিপোর্ট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা দেশে লাগামছাড়া ভাবে বাড়ছে সংক্রমণ। তার উপরে পরিসংখ্যান বলছে, মেট্রো শহরগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে কলকাতা। এরই মধ্যে শহরে শুরু হয় অ্যান্টিবডি টেস্ট। ব়্যান্ডম নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখা হয়, শরীরে অ্যান্টিবডি রয়েছে কিনা। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা মিলিয়ে শহরের ১৭টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের থেকে রক্ত পরীক্ষা হয়। অন্তত দু ’হাজার বাসিন্দার রক্ত পরীক্ষা হয়েছিল, যাঁদের কেউ সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্যের বাইরে যাননি। আর তাতেই মিলেছে আশা বাড়ানোর মতো তথ্য। আইসিএমআর-এর সমীক্ষা বলছে, কলকাতা শহরে ১৪.৩৯ শতাংশ মানুষের দেহে করোনার অ্যান্টিবডি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে!

    মাসখানেক আগেই শহর কলকাতা ও একাধিক জেলায় বেশ কিছু মানুষের শরীর থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে অ্যান্টিবডি টেস্টের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সংগৃহীত রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে অন্তত ১৭ শতাংশের করোনা পজিটিভ। এই তথ্য থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়, রাজ্যের যে কোনও জেলা থেকে করোনা সংক্রমণে অনেকটাই এগিয়ে কলকাতা। কিন্তু অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার নিরিখে বিচার করে রীতিমতো সন্তোষ প্রকাশ করেছে আইসিএমআর।

    আইসিএমআর-এর তথ্য বলছে, শুধু কলকাতা নয়, সংস্থার ওই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কলকাতা লাগোয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেও ২.৫ শতাংশ মানুষের শরীরে করোনা প্রতিরোধের অ্যান্টিবডি মিলেছে। পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ১ শতাংশেরও কম মানুষের শরীরে তৈরি হয়েছে অ্যান্টিবডি।

    গতকালই এ রাজ্যে রেকর্ড সংক্রমণের খবর মিলছে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে ৬২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন গত ২৪ ঘণ্টায়! মারা গেছেন ১৪ জন। এঁদের মধ্যে ১৮০ জন আক্রান্তই কলকাতা শহরের বাসিন্দা। মৃতদের মধ্যেও ৬ জন কলকাতার। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত রাজ্যে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৯০৭।

    এ শহরের মৃত্যুহার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নানা মহলেই। কিন্তু একই সঙ্গে আশ্বাস দিয়েছে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার তথ্য। মহানগরীর বাসিন্দাদের মধ্যে “হার্ড ইমিনিউটি” বা প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশ দ্রুতই তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, করোনা অ্যান্টিবডি শনাক্তকরণের মাধ্যমে বোঝা যাবে যে কত মানুষ নিজেদের অজান্তেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সেরেও উঠেছেন। এটা আবার অন্যদিক দিয়ে আশঙ্কাও তৈরি করছে, কারণ উপসর্গহীন ভাবে শরীরে করোনা বহন করার সময়ে হয়তো সংক্রমণও ঘটেছে আরও বেশি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More