বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

বদলাচ্ছে আবহাওয়া, কমতে পারে শস্য উৎপাদন, সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৬ সালের পরে ২০১৯ সালই হতে চলেছে বিশ্বে উষ্ণতম বছর। বিশেষত গত জুলাই মাসে যেমন গরম পড়েছিল, অতীতে আর কখনও এমন হয়েছে বলে মনে করতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। জুলাইয়ের আগে দীর্ঘদিন বৃষ্টি হয়নি। অন্যান্যবার যেমন প্রাক বর্ষা বৃষ্টিপাত হয়, এবছর তেমন হয়নি। ফলে অনেক রাজ্যে খরার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তারপরে অগাস্টে দেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে শুরু হয়েছে অঝোর বৃষ্টি। কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে।

গত সপ্তাহে মাত্র একদিনে কর্ণাটকে যা বৃষ্টি হয়েছে, তা স্বাভাবিকের পাঁচগুণ। রাজ্যের নানা প্রান্তে গত কয়েকদিনে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০-১২ গুণ বৃষ্টি হয়েছে। মাইসুরুতে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩২ গুণ বেশি। এর ফলে রাজ্যে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। শনিবার পর্যন্ত কর্ণাটকে মারা গিয়েছেন ২৪ জন। মোট ৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে।

মহারাষ্ট্রেরও বহু এলাকা বন্যায় ডুবে গিয়েছে। কেরলে প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে নামছে ধস। বিহারে প্রবল বন্যার পর জল নামতে শুরু করেছে। সেখানে ইতিমধ্যে মারা গিয়েছেন ১২৫ জন। কয়েক হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। বিহারে বন্যার আগে চলছিল তাপপ্রবাহ। তাতে মারা গিয়েছিলেন ২০০ জন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, খরা ও বন্যার অন্যতম কারণ উষ্ণায়ন। সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল সুনীতা নারায়ণ বলেন, বর্ষা ঋতুতে অনেক বদল আসছে। নিয়মিত বন্যার কবলে পড়ছে আমাদের দেশ। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, আমরা আবহাওয়া পরিবর্তনের শিকার হচ্ছি।

ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল ফোর ক্লাইমেট চেঞ্জ গত বুধবার আবহাওয়া পরিবর্তনের ওপরে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, বহু এলাকা শুকিয়ে মরুভূমির মতো হয়ে গিয়েছে। মাটির চরিত্র বদলাচ্ছে। ফলে খাদ্যশস্যের উৎপাদন হচ্ছে কম।

রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পরিবেশের ওপরে এত চাপ আগে কখনও পড়েনি। মাটি আর এত লোকের উপযোগী খাদ্য উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে সব ধরনের খাদ্যশস্যের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ভারত সম্পর্কে রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখানকার চাষবাস বর্ষার ওপরে নির্ভরশীল। ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে চাষের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। ভারতে উপকূলরেখা ৭৫০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। হিমালয়ে ১০ হাজারের বেশি ছোট ও বড় হিমবাহের জলে এদেশের নদীগুলি পুষ্ট। এখানে জমি দ্রুত উর্বরতা হারাচ্ছে। দেশের অন্তত ৩০ শতাংশ জমি উর্বরতা হারিয়েছে। নির্বিচারে গাছপালা কেটে ফেলা তার অন্যতম কারণ।

Comments are closed.