বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৫
TheWall
TheWall

কাজের জায়গায় খিটখিটে বস্? ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছেন না তো!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপার্জন করছেন দু’হাতে, তাই একেবারেই সময় নেই পরিবারের জন্য।  দিনের ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা দিচ্ছেন অফিসকে।  সেই অফিস, যাকে আজকাল স্মার্টলি আমরা বলি ‘সেকেণ্ড হোম’।  তো আপনার বাড়িতে কারও সাথে ঝামেলা হলে তো মুখের উপরেই শুনিয়ে দেন চোখা চোখা শব্দ।  কিন্তু আপনার ওই সেকেণ্ড হোমে আপনাকে যদি খিটখিটে, বিরক্তিকর একজন বসের কাছে কাজ করতে হয়, তখন কী করবেন? পারবেন, দু-চার কথা শুনিয়ে দিতে? হজম করতে হয় তো সবটাই! আর সেই বস্ যাঁরা, তাঁদের জন্য একজন এমপ্লয়ি কী কী সমস্যার মুখে পড়েন, জানেন কি?
ম্যঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে, এমন একজন টক্সিক বসের জন্য শুধু একজন বা দুজন কর্মীই যে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হন, তা কিন্তু নয়।  পুরো কোম্পানিই কিন্তু সার্বিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।


বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ফিল্ডে কর্মরত মোট ১২০০ জনের উপর একটি সমীক্ষা করা হয়, সেখানে প্রত্যেকের ভালো থাকা নিয়ে জানতে চাওয়া হয়।  স্বাভাবিকভাবেই দেখা যায়, যাঁরা বলছেন তাঁরা বেশ ভালো আছেন, তাঁদের ম্যানেজার বা বস্ আসলে অতটা ‘বসি’ নন।  আর যাঁরা রোজ খিটখিটে বস্ সামলান, তাঁদের জীবন বেশ দুর্বিসহ।

সমীক্ষাটিতে বলা হচ্ছে, যদি কোনও বস্ খিটখিটে এবং সবকিছুতেই নেগেটিভ অ্যাপ্রোচ রাখে, তবে সেই বসের আণ্ডারে থাকা কোনও কর্মীই কখনোই টিম ওয়ার্কে বিশ্বাসী হয় না।  কারণ তাঁরা আলাদাভাবে বসের চোখে ভালো সাজতে চান।  তাই খুবই অ্যাগ্রেসিভভাবে নিজের কাজ করে অন্যকে ছোট দেখিয়ে নিজের ক্রেডিট নিতে ব্যস্ত থাকে।  ফলে সেখানে টিমওয়ার্কও থাকে না, আর কাজের পরিবেশও নষ্ট হয়।

আজকাল এমন বস প্রায় সব কাজের জায়গাতেই আপনি কম বেশি পাবেন, তবে এই বসকে সামলাতে সামলাতে আপনি ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছেন না তো? এখন এই ডিপ্রেশনের প্রবণতা বাড়ছে খুবই।  কারণ আপনার সাইকোপ্যাথ এবং নারসিসিস্ট বস্ আপনার মাথার উপর সর্বক্ষণ নাচছে।  তাই আপনার নাক ব্যাঁকা, না ছেঁড়া জিন্স, না চোখের কাজল ধ্যাবড়া যে কোনও কিছুই তাঁর অপছন্দ হতে পারে।  সেক্ষেত্রে মুশকিল তো আপনারই।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একটি গবেষণা বলছে, যে সব এমপ্লয়ি এজাতীয় ব্যবহার দিনের পর দিন সহ্য করে যান শুধু চাকরির বাজার মন্দা বলে, তাঁরা বিদ্রুপ গিলে ফেলতে ফেলতে, মানসিক ক্লান্তিতে, অবসাদে চলে যান।
তাহলে আপনি করবেন কী? সব সময় মনে রাখবেন, শুধুমাত্র আপনার কাজটুকু দিয়ে এক্ষেত্রে এই বস্ আপনাকে বিচার করেন না।  এ জাতীয় বস্ হলে নিজেকেই ব্যালেন্স করে চলতে হবে।  তাঁর কোন ব্যবহারে ঝাঁজালো উত্তর দেবেন, আর কোনটা রয়্যালি ইগনোর করবেন সেটা আপনারই হাতে।

 

Comments are closed.