বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

অনুষ্ঠান চলাকালীন স্কুলেই বেধড়ক মার শিক্ষিকাকে, অভিযুক্ত সহকর্মী তথা পঞ্চায়েত সদস্য

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: তৃণমুলের জেলা পরিষদের সদস্যা তথা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য স্পোর্টস এন্ড গেমস এর জয়েন্ট সেক্রেটারিকে নিগ্রহের অভিযোগ উঠল খোদ দলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের বিরুদ্ধেই। আক্রান্ত রাফিনা ইয়াসমিনের পরিবারের আরও অভিযোগ, তাঁকে খুন করার চেষ্টায় তাঁরই দলের লালগোলার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়।

রবিবার দেখা যায়, স্থানীয় হাসপাতালের বেডে শুয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন দুষ্কৃতীদের হাতে নিগৃহীত বাংলার শিক্ষিকা তথা তৃণমুলের জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যা ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য স্পোর্টস এন্ড গেমস এর জয়েন্ট সেক্রেটারি রাফিনা ইয়াসমিন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই তাকে লালবাগ সদর হাসপাতলে স্থানান্তরিত করা হবে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

রাফিনা ইয়াসমিন এ দিন বলেন, “আমাদের দলের ওই স্থানীয় তৃণমুল সদস্য তাজমল হক নিজের প্রতিপত্তি আর প্রভাব বিস্তারের জন্য আমায় মেরে ফেলতে চেয়েছেন। সে জন্যই তিনি দুষ্কৃতীদের দিয়ে এই আক্রমণ চালিয়েছে। আমি চূড়ান্ত শাস্তি চাই আইনি পথে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, ঘটনার সূত্রপাত রবিবার লালগোলার মানিক চক এলাকায়। স্থানীয় মানিক চক মাদ্রাসার ওই শিক্ষিকা ২০০৯ থেকে ওই স্কুলে পড়াচ্ছেন। পাশের ভগবানগোলা থানার রামবাগ এলাকা থেকেই নিয়মিত যাতায়ত করেন তিনি। বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল এই দিন।

তখনই আচমকা অতর্কিতে ওই শিক্ষিকার উপর দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করে। মঞ্চের চেয়ার ও পাশে থাকা লোহার রড দিয়ে তাঁকে পেটানো হয় বলে অভিযোগ। দলেরই লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সদস্য তথা ওই স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি তাজমল হক ঘটনায় অভিযুক্ত বলেই শিক্ষিকা রাফিনা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন।

স্থানীয় ও বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা ছুটে এসে ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ছুটে আসে পুলিশ। নিগৃহীতা শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ভগবানগোলা কানাপুকুর হাসপাতালে। পরে তাঁকে সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয়। এই পুরো ব্যাপারে লালগোলার বিডিও মহম্মদ সামসুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আমার কাছে এই ঘটনা নিয়ে কোন অভিযোগ আসেনি।”

এলাকা জুড়ে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত তাজমল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে উনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই শিক্ষিকা তথা তৃণমুলের জেলা পরিষদের সদস্যা আমায় ফাঁসানোর উদ্দেশে, স্কুলে নিজের দুর্নীতি চাপা দিতেই এই মিথ্যে অভিযোগ করছে।”

Shares

Comments are closed.