ব্যাঙ্কের কাছে ধার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা, অনিল অম্বানী বললেন, আমার মূল্য এখন জিরো

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : তাঁর দাদা মুকেশ অম্বানী এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড়লোক। তিনি নিজেও একসময় ছিলেন বিলিওনেয়ার। অর্থাৎ ১০০ কোটির বেশি টাকার মালিক। কিন্তু এখন ডুবে আছেন ঋণে। টাকা আদায়ের জন্য মামলা করেছে পাওনাদারেরা। শুক্রবার আদালতে শিল্পপতি অনিল অম্বানী জানিয়েছেন, তিনি যেখানে যত বিনিয়োগ করেছিলেন, সবেতেই ক্ষতি হয়েছে। তাঁর মূল্য এখন শূন্য। অনিল অম্বানীর মতো প্রথম সারির শিল্পপতি ওরকম বিবৃতি দেওয়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে নানা মহলে।

চিনের তিনটি ব্যাঙ্কের কাছে অনিল অম্বানীর ঋণের পরিমাণ ৪৮৬০ কোটি ৮৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। সেই অর্থ আদায়ের জন্য লন্ডনের একটি আদালতে তারা মামলা করেছিল। এদিন আদালতে শিল্পপতির কৌঁসুলি বলেন, “আমি যেখানে যত বিনিয়োগ করেছিলাম, সবই ব্যর্থ হয়েছে। আমার মোট মূল্য এখন শূন্য।”

অনিল আম্বানীর রিলায়েন্স গ্রুপের প্রতিনিধিরা এদিন জানিয়েছেন, তাঁরা এখনই মন্তব্য করবেন না। আদালত চূড়ান্ত রায় দিলে তবে বিবৃতি দেবেন। অনিলের কৌঁসুলি রবার্ট হাওয়ি বলেন, আদালত নিশ্চয় আমার মক্কেলকে এখনই ঋণশোধ করতে বলবে না। কারণ অত অর্থ দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এখনই যদি তাঁকে পুরো অর্থ মিটিয়ে দিতে বলা হয়, তিনি হয়তো আর মামলা লড়তে পারবেন না।

চিনের তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ২০১২ সালে অনিলের রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেডকে ৬৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ধার দেয়। অনিল ব্যক্তিগতভাবে গ্যারেন্টার হন। সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য লন্ডনের কোর্টে মামলা করা হয়েছে। নিয়মমতো মামলা শুরুর আগে কোর্টে অনিলকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা রাখতে হবে। সেই অর্থ যাতে জমা রাখতে না হয়, সেজন্যই অনিলের কৌঁসুলি রবার্ট হাওয়ি আদালতে জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেলের মূল্য এখন শূন্য।

হাওয়ি বলেন, অনিলের কাছে এমন কোনও ধনভাণ্ডার নেই যেখান থেকে তিনি ১০ লক্ষ ডলার বার করতে পারেন। এক কোটি কিংবা ১০০ কোটি ডলারের তো প্রশ্নই ওঠে না। চিনের তিনটি ব্যাঙ্কের কৌঁসুলি বানকিম থানকি বলেন, “অনিল পাওনাদারদের এড়াতে চেষ্টা করছেন। তাঁর আচরণ সুবিধাবাদীর মতো।”

৬০ বছর বয়সী অনিলের বিরুদ্ধে দেশেও ঋণের অর্থ ফেরত না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল গতবছর। সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস যদি এরিকসন এবির ভারতীয় শাখাকে অবিলম্বে ৫৫০ কোটি টাকা ঋণ না শোধ করে, তাহলে অনিলকে জেলে পাঠানো হবে। এই সময় তাঁর দাদা মুকেশ ঋণের টাকা দিয়ে দেন। সেজন্য অনিলকে জেলে যেতে হয়নি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More