বৃহস্পতিবার, জুন ২০

কংক্রিটের বুকে সে জেগে আছে মেঠো গন্ধ নিয়ে, গ্রীষ্মের শহরে এক ফালি শীতল বিস্ময়

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

কংক্রিটের জড়োয়া সাজে রীতিমতো দমবন্ধ অবস্থা তিলোত্তমা কলকাতার। শহর জুড়ে বাড়ছে মানুষের সংখ্যা, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গাড়ি, বাড়ি, অফিস, দোকান। সব মিলিয়ে সাম্রাজ্য বাড়াচ্ছে দূষণ, শহর ছেয়ে যাচ্ছে ধুলোয়। আকাশ, মাটি, জল, গাছ– সব কিছুই কমছে আশঙ্কাজনক পরিমাণে। যান্ত্রিক দৈত্যেরা গিলে খাচ্ছে শহরের প্রাণ।

তবে এ সব কিছুর মধ্যেই, এই শহরের বুকেই, একেবারে মধ্য কলকাতার মাঝেই রয়েছে এক চিলতে বিস্ময়। মাটির বাড়ি। মাটির চওড়া দেওয়াল, টালির চাল, কাঠের পাল্লায় মোড়া গরাদ বসানো জানলা, চিলতে নিকোনো উঠোন। দেখে বিশ্বাস হয় না, কলকাতায় দাঁড়িয়ে এমনটা দেখা যেতে পারে।

যতই বিশ্বাস না হোক, এ শহরের বুকেই আজও অস্তিত্ব আছে এমন বাড়ির। বাড়ির প্রাক্তন মালিক সুকুমার ঘোষ জানাচ্ছেন, এলাকায় আগে জমিদার পরিবারের বাস ছিল। ওই মাটির বাড়ি সম্ভবত তারই অংশ। হয়তো গোয়াল ছিল, বা ছিল নিচু তলার কর্মচারীদের থাকার জায়গা। “আমরা আজন্ম এমনটাই দেখছি। ভাড়াটে বদলাতে থাকে।“– বলেন তিনি। জানান, ঝড়ে-জলে মাঝেমাঝে ক্ষতি হলেও, তাতে ফের মাটির প্রলেপ পড়ে। খোলনলচে বদলায় না।

কী বলছেন, সে বাড়ির বাসিন্দারা? ভাড়াটে পরিবারের সদস্য শ্যামলী কুণ্ডুর কথায়, “এ বাড়ির আরামই আলাদা। এই গ্রীষ্মের দিনে মাটির মোটা দেওয়াল যেন দুর্গের মতো আটকে রাখে সূর্যের তেজকে। সারা শহর যখন ঝলসে যায়, সবাই যখন ঘরে ঘরে এসি লাগায়, আমরা কিন্তু তখন দিব্যি থাকি ঠান্ডায়।“

দেখুন ভিডিও।

কাঁচা বাড়িতে অগোছালো ছিটিয়ে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। রোজকার কাজ সারছেন মানুষজন। আছে বিদ্যুৎ পরিষেবা বা জলের লাইনের মতো প্রাথমিক চাহিদা। কোনও খানে কোনও অসুবিধা নেই, নেই কমতি। কিন্তু গোটাটাতেই ছেয়ে আছে মাটির গন্ধ, ধুলোর স্পর্শ।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “শহরের বুকে এমনটা বেশ অভিনব হলেও, আমাদের চোখে সয়ে গিয়েছে। এখন আর অন্য রকম কিছু মনে হয় না। তবে অনেকেই বাইরে থেকে এসে অবাক হন। ভাবতেই পারেন না, মহানগরের বুকে এ ভাবে আজও মাটির বাড়ি টিকে থাকতে পারে।“

Leave A Reply