শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

পাহাড়ি পথে ছুটছিলেন রানার, পাশের জঙ্গল থেকে ঝাঁপিয়ে এল সিংহ! তার পর…

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলোরাডোর পাহাড়-জঙ্গল এলাকায় দৌড় অভ্যেস করছিলেন এক রানার। স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি, সিংহর আক্রমণের মুখে পড়বেন। কিন্তু সকলকে তাক লাগিয়ে, সিংহের সঙ্গে লড়ে তাকে মেরে ফেলে, নিজে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন ওই রানার। সরকারি ভাবে তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

কলোরাডো অরণ্য দফতরের খবর, আক্রমণকারী সিংহটির বয়স বেশি নয়। ২৭০০ একর জায়গা জুড়ে বিশাল অরণ্যে সঙ্গীসাথীদের সঙ্গে বাস করত সে। ওই অরণ্যের গা ঘেঁষেই হর্সটুথ পাহাড়। তার ওপর দিয়ে গেছে ওয়েস্ট রিজ ট্রেল। সেই ট্রেলেই দৌড়চ্ছিলেন ওই রানার। আরও অনেকেই ওই ট্রেল ধরে রানিং, হাইকিং, বাইকিং করেন বহু দিন ধরেই।

সোমবারও ও রকমই দৌড়চ্ছিলেন এক রানার। আগেও একাধিক বার ওই ট্রেলে দৌড়েছেন তিনি। অরণ্য দফতরের আধিকারিকদের তিনি জানান, এ দিন আচমকাই তাঁর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি বিশাল সিংহ। সরাসরি তাঁর মুখে থাবা মারে সে। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। প্রবল চেষ্টায় নিজেকে ছাড়িয়ে সিংহটির গলা টিপে ধরেন ওই রানার। তাঁর মুখ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়, রক্তাক্ত হয় শরীরের নানা অংশ। ভেঙে যায় কবজি। কিন্তু প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

মার্ক লেসলি নামের এক আধিকারিক বলেন, “নিজেকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন ওই রানার। সিংহের আক্রমণের মুখে পড়তে তা-ই করা উচিত। সমস্ত রকম উপায় প্রয়োগ করে লড়া উচিত। ওই রানার সেটা করেছিলেন বলেই প্রাণে বেঁচেছেন।”

নিজের খেয়ালে দৌড়চ্ছিলেন ওই রানার। হঠাৎই পেছনে শুনতে পান গর্জন। ঘুরে তাকাতেই দেখেন বিশাল এক সিংহ। পালানোর সময় ছিল না, উপায়ও ছিল না। আচমকাই ঝাঁপিয়ে পড়ে হিংস্র প্রাণীটি।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, পাহাড়ি এলাকার সিংহ সাধারণত শান্ত হয়। নিজেদের মধ্যেই থাকে তারা। বাইরে গিয়ে শিকার করার নেশা নেই তাদের। কলোরাডোর পাহাড়ে জঙ্গলের সিংহেরাও তাই। এর আগে মানুষকে আক্রমণ করার ইতিহাস খুব বেশি নেই তাদের। কিন্তু সম্প্রতি ওই পাহাড়ি ট্রেলে মানুষের চলাচল অনেকটা বেড়ে যাওয়ায়, প্রায়ই বিরক্তবোধ করে সিংহেরা। প্রায়ই গর্জনে জানান দেয় নিজেদের উপস্থিতি।

আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বয়সে ছোটো সিংহটি কোনও ভাবে ট্রেলের কাছাকাছি চলে এসেছিল। ওই রানারের গায়ের গন্ধ, পায়ের শব্দ তার শিকারি প্রবৃত্তিকে চাগিয়ে দেয়।

অরণ্য দফতর অবশ্য বরাবরই নির্দেশ জারি করেছে ওই ট্রেলে একা না যাওয়ার, সব সময়ে গ্রুপ নিয়ে ট্র্যাভেল করার। নিজে থেকে কোনও বন্য প্রাণীর প্রতি আগ্রহ দেখানোও বারণ। এমনও নির্দেশ রয়েছে, কোনও হাইকিং কিংবা রানিং গ্রুপ যদি সিংহের মুখোমুখি হয়, তা হলে যেন তারা শান্ত থাকে, কোনও শব্দ না করে সিংহের চোখে চোখ রেখে, দু’হাত মাথার ওপরে তুলে ধীরে ধীরে পিছিয়ে চলে যায়। দৌড়ে পালাতে বারণ করা হয়, বারণ করা হয় সিংহের দিকে পেছন ঘুরতে।

তবে সোমবারের ঘটনাটির ক্ষেত্রে সে সুযোগ পাননি ওই রানার। আচমকাই আক্রমণের মুখে পড়েন তিনি। গোটা ঘটনাটির তদন্ত করে দেখছে কলোরাডো সরকার।

Shares

Comments are closed.