বাংলাদেশ থেকে নাবালিকাকে কলকাতায় এনে দেহব্যবসা! সাজা হল অপরাধীদের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওযাল ব্যুরো: বাংলাদেশ থেকে নাবালিকাকে পাচার করে কলকাতায় নিয়ে এসে দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য করার অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা হল দুই অপরাধীর। বছর চারেক আগের ওই ঘটনায় রায় বেরোল এত দিনে। এর দু’বছর আগেই অবশ্য ওই নাবালিকাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা দফতরের অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিটে খবর আসে, এক জন নাবালিকা মেয়েকে বাংলাদেশ থেকে পাচার করে আনা হয়েছে সোনাগাছির বেশ্যা পল্লিতে। জোর করে কাজে নামানো হচ্ছে তাকে।

সেই দিনই সোনাগাছির দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিটে তল্লাশি চালায় অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিটের বিশেষ টিম। আগে থেকে খবর পেয়ে যাতে মেয়েটিকে সরিয়ে না ফেলতে পারে কেউ, তাই সোনাগাছি থেকে বেরোনোর সব ক’টি মুখে সাদা পোশাকে পাহারা দিচ্ছিলেন সেই টিমের বিভিন্ন সদস্য।

একটি নির্দিষ্ট বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয় নাবালিকা মেয়েটিকে। জানা যায়, দু’দিন আগে তাকে আনা হয়েছিল কলকাতায়। আটকে রাখা হয়েছিল জোর করে। জোর করে নামানো হয়েছিল দেহব্যবসাতেও। তদন্ত চালানোর পরে গ্রেফতার করা হয় বাড়ির মালকিন তানিয়া মণ্ডল ওরফে তানিয়া খাতুনকেও। জানা গিয়েছিল, তিনিই এই নারীপাচার চক্রের অন্যতম মাথা।

তদন্ত চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, কিশোরী মেয়েটির বাড়ি বাংলাদেশের খুলনা জেলার বটিয়াঘাটায়। গরিব পরিবারের চার ভাই-বোনের মধ্যে সে-ই কনিষ্ঠ। সেই গ্রামেরই মেয়ে তানিয়া মণ্ডল। তানিয়া কলকাতায় থাকলেও, বাবা-মার সঙ্গে দেখা করতে প্রায় যেতেন গ্রামে। সেই সূত্রেই মেয়েটির পরিবারের সঙ্গেও পরিচয় ছিল তানিয়ার। যদিও তানিয়ার পেশা সম্পর্কে কোনও ধারণাই ছিল না গ্রামের কারও। সকলে জানতেন, তানিয়া কলকাতায় থাকে এবং ভাল রোজগার করে।

এই সময়েই কলকাতায় একটা কাজ দেখে দেওয়ার জন্য তানিয়ার কাছে অনুরোধ করে ওই কিশোরী মেয়েটি। তানিয়া শুনেই তাকে কাজের আশ্বাস দেয়। জানায়, মোটা মাইনের কাজ। কিন্তু সেই কাজ যে দেহব্যবসার, তা কে জানত! কে-ই বা জানত, তানিয়া আদতে নারীপাচার চক্রের মাথা!

এর পরে তানিয়ার কথামতোই নির্দিষ্ট দিনে কিশোরী মেয়েটিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছে দেয় তার বাড়ির লোকজন। সেখানেই অপেক্ষা করছিল আহমেদ আলি নামের এক জন, যে জানায়, তাকে তানিয়া পাঠিয়েছে। আহমেদই মেয়েটিকে নিয়ে আসে দুর্গাচরণ স্ট্রিটের বাড়িতে। তার পরে তাকে আটকে রেখে দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য করে তানিয়া আর আহমেদ আলি।

তানিয়াকে গ্রেফতার করার পরে, জেরা করার সময়ে জানা যায় এই আহমেদের কথা। কয়েক দিন পরে, ২৬ ডিসেম্বর কলকাতা এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় আহমেদ আলিকে। জেরার মুখে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নেয় তানিয়া-আহমেদ দু’জনেই। বেশ কিছু দিন ধরেই তারা নারীপাচারের সঙ্গে যুক্ত। কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের নানা প্রান্ত থেকে বিভিন্ন মেয়েকে তারা নিয়ে আসত কলকাতায়। তার পরে বাধ্য করত দেহব্যবসায় নামতে।

তানিয়া আর আহমেদের বিরুদ্ধে নারীপাচারের মামলা রুজু করা হয়। চার্জশিটও জমা দেওয়া হয় যথাসময়েই। আদালতে প্রয়োজনীয় হাজিরার পর্ব শেষ হওয়ার পরে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যায় মেয়েটিও।

সেই মামলারই রায় বেরোল বৃহস্পতিবার। দুই অভিযুক্তকেই ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে তানিয়ার ৩৪ হাজার টাকা আর আহমেদের ১০ হাজার টাকার জরিমানার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। জরিমানার সমস্ত টাকাই ক্ষতিপূরণ বাবদ যাবে কিশোরী মেয়েটির কাছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More