বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

৯৭ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার! বৃদ্ধতম বিজ্ঞানী হিসেবে রসায়নে সম্মানিত মার্কিন গবেষক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইচ্ছেশক্তির সঙ্গে অধ্যবসায় হাত ধরলে কী না সম্ভব করা যায়! সেঞ্চুরি ছুঁই-ছুঁই বয়সেও জেতা যায় নোবেল পুরস্কার! প্রমাণ করা যায়, বয়স কেবল একটা সংখ্যা ছাড়া আর কিছু নয়! নবতিপর মার্কিন বিজ্ঞানী জন বি গুডএনাফ বুঝিয়ে দিলেন, বয়স কোনও বাধা নয়। বরং বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল পাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে ৯৭ বছর বয়সে পৌঁছে!

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য, এবছর আরও দু’জন বিজ্ঞানীর সঙ্গে যৌথ ভাবে নোবেল পুরস্কার পেলেন বৃদ্ধ বিজ্ঞানী। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির কারণেই বহনযোগ্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবহার সহজ হচ্ছে। মোবাইল ফোন, পেসমেকার, ইলেকট্রিক কারের ব্যবহারের পথ তৈরি করেছে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। সেই অবদানের কারণেই  তাকে সম্মানিত করা হল নোবেল পুরস্কারে।

বিজ্ঞানীরা জানান, এক লিটার ডিজেল বা পেট্রল পুড়লে তা থেকে প্রায় ২.৪ কিলোগ্রাম কার্বন-ডাই-অক্সাইড বায়ুতে মেশে। সেখানে দিনের পর দিন গ্যালন গ্যালন জ্বালানি পুড়ে বায়ুর কী পরিমাণ ক্ষতি করছে, তা সহজেই অনুমেয়। ব্যাটারি চার্জ দিতে যে বিদ্যুৎ লাগে, তা উৎপাদন করতে গেলেও কার্বন তৈরি হয়। তবে, জ্বালানি পুড়ে তৈরি কার্বনের থেকে তা পরিমাণে কম। জলবায়ু রক্ষায় দূষণ নিয়ন্ত্রণের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে বিশ্বজুড়ে, তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আগামী দিনে পেট্রল-ডিজেল বা জৈব জ্বালানির পরিবর্তের বৈদ্যুতিন গাড়িকেই মান্যতা দেবে বিশ্ব।

প্রতি বছরেই পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সাহিত্য ও শান্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য একাধিক বিজয়ীকে এই নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস বুধবারই এ বছরের রসায়েনে নোবেল বিজয়ী তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করে। সেখানেই ঘোষিত হয় জন বি গুডএনাফের নাম।

এর আগে মার্কিন বিজ্ঞানী আর্থার আস্কিন ৯৬ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার পেয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। ২০০৭ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন তিনি। এবার তাঁর সেই রেকর্ড ভেঙে, আরও বেশি বয়সে নোবেল জয়ের রেকর্ড গড়লেন গুডএনাফ।

১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে স্যার আলফ্রেড নোবেল নিজের মোট উপার্জনের ৯৪% (৩ কোটি সুইডিশ ক্রোনার) দিয়ে তার উইলের মাধ্যমে এই নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেন। এই বিপুল অর্থ দিয়েই শুরু হয় বিভিন্ন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার প্রদান। ১৯৬৮ সালে তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি।

তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, এই পুরস্কার ঘোষণার আগেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন আলফ্রেড নোবেল। আইনসভার অনুমোদন শেষে তাঁর উইল অনুযায়ী নোবেল ফাউন্ডেশন গঠিত হয়। তারাই সায়িত্ব নেয় প্রতি বছর নোবেল পুরস্কারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার। বিজয়ী নির্বাচনের দায়িত্ব থাকে সুইডিশ অ্যাকাডেমি আর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির উপরে।

Comments are closed.