ভোট দিলে কি ঘর মিলবে? উত্তর খুঁজছে গঙ্গায় সব হারানো কালিয়াচক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    বিবেক সিংহ, মালদা :  খোলা আকাশের নিচে আমবাগানে চলছে রান্নাবান্না। সেখানেই খাওয়াদাওয়া, শৌচকর্মও। একদিন দু’দিন নয়, টানা প্রায় আড়াই বছর ধরে। তারই মধ্যে ভোট এসেছে নিয়ম মেনে। একটা ঘরের আশায় ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু ফল মেলেনি কোনও। এ বার আবারও দুয়ারে ভোট। অভিমানে দূরে থাকবেন, না কি ফের স্বপ্ন দেখতে দেখতে সামিল হবেন গণতন্ত্রের উৎসবে, দোটানায় পড়ে গিয়েছেন বাসিন্দারা।

    গঙ্গার ভাঙনে হঠাৎই নেই হয়ে গেছে মাথার উপরের ছাদটুকু। ঘর নেই, দুয়ার নেই। আস্তানা বলতে অস্থায়ী একটা টিনের ছাউনি। স্থানীয় স্কুলে কোনওরকমে বেঁচে আছে কেউ। কেউ বেঁচে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন ত্রিপলে মুখ ঢেকে। গঙ্গার আগ্রাসী ভাঙনে তলিয়ে গেছে কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের বৈষ্ণবনগর এলাকার বীরনগর, সরকার টোলা, পারদেউনাপুর, শোভাপুর সহ প্রায় শতাধিক গ্রাম। এই আড়াই বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এই ভিটেহারাদের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখেও গিয়েছেন। কিন্তু তাও ঠিকানা মেলেনি।

    লিপিকা মণ্ডল, পার্বতী মণ্ডল ,বলরাম চৌধুরী, প্রদীপ বিশ্বাস, রাখাল সরকাররা বলছিলেন, “ভোট দেব না, তা নয়। আমরা ভোট দেব। দিল্লিতে এমপি পাঠাব। মাথা গোঁজার জায়গাটুকু যদি পাই, সেই আশা নিয়েই আমরা ভোট দিতে যাব।”

    পার—অনুপনগর, ঘোষপাড়া,  চৌধুরিপাড়া, সরকার টোলা, মণ্ডলপাড়ার এখন আর কোনও অস্তিত্বই নেই। একের পর এক গ্রাম গিলে খেয়েছে গঙ্গা। সেই আড়াই বছর আগে। পাড়ের ভাঙ্গন বন্ধ হয়নি আজও। কয়েক হাজার ভোটার এখনও আশ্রয়হীন। তাঁদের অস্থায়ী ঠিকানা এখন বীরনগর হাইস্কুল। অন্যের আমবাগানে টিনের ছাউনি করে দিনগুজরান করছেন কেউ কেউ।  বলছেন, “ভেবেছিলাম আর ভোট দেব না। কারণ,  ভোট দিয়ে লাভ হবে না কিছুই। এখনও ভাবছি।”

    এই বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন বিজেপির স্বাধীন সরকার। কিন্তু তিনিও এই ভাঙ্গন—পীড়িতদের জন্য কিছু করতে পারেননি বলে দাবি তাঁর। স্বাধীনবাবুর কথায়, “বিজেপির বিধায়ক বলেই দ্বিচারিতা করছে রাজ্যের শাসক দল। বিজেপির বিধায়ক বলেই গীতাঞ্জলি প্রকল্পে বাড়ি দেওয়া হচ্ছে না এই এলাকার ভাঙ্গন পীড়িত মানুষদের।” তবে জেলা তৃণমূল নেতা অম্লান ভাদুরির দাবি, ওই এলাকার মানুষদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More