শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

সামনেই ভ্যালেন্টাইনস ডে, লাল গোলাপে লাভের মুখ দেখছে ধানতলা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া : দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিস্তীর্ণ জমির উপর কেউ যেন বিছিয়ে দিয়েছে লাল কার্পেট। গোটা এলাকায় গোলাপ বাগান যে। রানাঘাট ২ নম্বর ব্লকের ধানতলা, আড়ংঘাটা, দত্তফুলিয়া সহ আশেপাশের এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমিতে চাষ হয় গোলাপ ফুলের। সিংহভাগ মানুষ জড়িত ফুল চাষের সঙ্গে। বছরভর ফুল চাষ হলেও এখানে উৎসবের মাস যেন ফেব্রুয়ারি। আর তাকে সামনে রেখেই ফুল ফোটানোর ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায় মাস তিনেক আগে থেকেই।

ফেব্রুয়ারি মানেই ভ্যালেন্টাইনস ডে। আর সে দিন গোটা পৃথিবীই প্রায় যে বিন্দুতে এসে মেশে, তা হল গোলাপ। ভালবাসা আর শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়ে প্রিয়জনের হাতে তুলে দাও গোলাপ ফুল। দামটা এ দিন শুধুই একটা সংখ্যা মাত্র।

ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়া থেকেই তাই ধানতলার ফুলচাষিদের মনেও ভালবাসার রং। দিন যত এগিয়ে আসে গোলাপের দামও ওঠে চড়চড়িয়ে। এক একটা ফুল পাইকারি বাজারেই বিক্রি হয় ১০ থেকে ১২ টাকায় বা তারও বেশি দামে। ফুল চাষি দশরথ মোদক বলেন, “ভ্যালেন্টাইনস ডে আসার আগে থেকেই বাড়তে থাকে গোলাপের দাম। একশো গোলাপ বারোশো-তেরোশো টাকায় বিক্রি করি আমরা। দিন যত এগিয়ে আসে তত বাড়ে দাম।”

ফুলচাষি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কথায়, “ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই তিন মাসই আমাদের আসল লাভের সময়। একে বিয়েবাড়ি, তারপর ভ্যালেন্টাইন ডে, এই সময়ের ফুল ফোটানোর জন্য অনেক আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করি আমরা। এই মাসটায় আমাদের গোলাপ পাড়ি দেয় বিদেশের বহু দেশেও।”

তাঁরাই জানালেন, তিন ধরণের গোলাপ চাষ হলেও লাল গোলাপের চাহিদা সবথেকে বেশি। তবে লালের পাশাপাশি গোলাপি ও হলুদ রঙের গোলাপ চাষও করেন তাঁরা। ভ্যালেন্টাইনস ডে আসার আগে থেকেই ট্রেনে ও প্লেনে করে দেশের অন্যান্য রাজ্য ও বিদেশে চাহিদা মতো গোলাপ ফুল পাঠিয়ে দেন তাঁরা। এছাড়া সড়ক পথেও নেপাল ভুটান সহ আশেপাশের দেশে পাঠানো হয়। প্রতিদিন সকালে ধানতলা, নোকাড়ি এলাকায় হাট বসে। সেখান থেকেই ব্যবসায়ীদের হাত ধরে পাড়ি জমায় ভালবাসায় মোড়া লাল গোলাপ।

Shares

Comments are closed.