ইংরেজিতে এমএ পাশ করলেন ৮৩ বছরের বৃদ্ধ! ইচ্ছেশক্তির কাছে হার মানল বয়স

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইচ্ছে থাকলে কি না হয়! মনের জোর যদি ধরে রাখা যায়, তা হলে হার মানে বয়সও। পঞ্জাবের ৮৩ বছরের বৃদ্ধ সোহন সিং গিল যেন সেটাই বুঝিয়ে দিলেন, স্নাতকোত্তর পাশ করে! বুঝিয়ে দিলেন, বয়স যে একটা সংখ্যামাত্র, তা শুধু কথায় নয়, কাজেও করে দেখানো যায়। বুঝিয়ে দিলেন, পড়াশোনার কোনও বয়স হয় না।

    বুধবার জলন্ধরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন সোহন সিং। যখন পরপর ছাত্রছাত্রীরা উঠে শংসাপত্র সংগ্রহ করছেন, তখন আচমকা এই অশীতিপর বৃদ্ধকে উঠতে দেখে একটু চমকেই যান দর্শকেরা। কিন্তু তার পরেই এগিয়ে গিয়ে স্নাতকোত্তরের শংসাপত্র নেন এই বৃদ্ধ। বিপুল হাততালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান সকলে।

    ১৯৩৭ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন সোহন সিং। তার পরে সেই ১৯৫৭ সালে মাহিলপুর খালসা কলেজ থেকে স্নাতক পাশও করেন। পরের বছর অমৃতসরের একটি কলেজ থেকে শিক্ষকতার কোর্স করেন। সোহন সিং। তার পরে পরিবারের চাপেস রোজগারের তাড়নায়,আর এগোয়নি পড়াশোনা। কিন্তু খুবই ইচ্ছে ছিল, বিএ-র পরে এমএ-ও করবেন তিনি। কিন্তু পঞ্জাবের হোশিয়ারপুর জেলার দাতা গ্রামের এই বৃদ্ধের তখন সুযোগ হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। তার পরেও বেশ কয়েক বার চেষ্টা করলেও, বিভিন্ন কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি।

    বৃদ্ধ বলেন, “স্নাতকের অধ্যাপক আমায় বলেছিলেন এমএ-টা করে ফেলতে। আমার ইচ্ছেও ছিল। কিন্তু আমি তখন কেনিয়া চলে যেতে বাধ্য হই। সেখানেই একটি স্কুলে পড়াতাম। তিন দশকেরও বেশি সময় পরে, ১৯৯১ সালে দেশে ফিরি। এখানেও পড়াতে শুরু করি। তখন থেকে ২০১৭ পর্যন্ত টানা শিক্ষকতা করেছি। কিন্তু স্নাতকোত্তরের পড়াশোনা আর করা হল না আমার। যদিও সেই ইচ্ছে আমার ছিলই।”

    ইচ্ছেপূরণের সময় হল, এত বছর পরে। সংসারের সব দায়দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে, দু’বছর আগে একটি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর পড়ার জন্য আবেদন করেন তিনি। তিনি বলেন, “ইচ্ছেশক্তি এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমি যেটা চেয়েছিলাম, সেই সুযোগ পেয়ে যাই। ইংরেজি আমার বরাবরের প্রিয় বিষয়। কেনিয়ায় থাকাকালীন ইংরেজিকে আরও বেশি করে রপ্ত করি। তাই সেই বিষয়েই স্নাতকোত্তর করার সিদ্ধান্ত নিই।”

    তবে পড়াশোনা আর শিক্ষকতার পাশাপাশি হকি খেলাও ভীষণ প্রিয় সোহনের। কেনিয়ায় থাকাকালীন স্থানীয় হকি ম্যাচে আম্পায়ারিংও করেছেন তিনি। এমন বর্ণময় চরিত্রের বৃদ্ধের পক্ষে এমন কিছু কঠিন হয়নি স্নাতকোত্তর পাঠ শেষ করা। দু’বছর পরে পরীক্ষা দিয়ে পাশও করেন তিনি। উদাহরণ হয়ে ওঠেন সকলের চোখে।

    বৃদ্ধ সোহন সিং এই সাফল্যের পরে জানিয়েছেন, বয়স হয়ে গিয়েছে ভেবে কেউ বসে থাকলে, চলবে না। যদি ইচ্ছেশক্তি থাকে, তা হলে নিজের স্বপ্নকে সফল করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত যে কোনও বয়সেই। কোনও কিছু অর্জন করার সত্যিকারের ইচ্ছে থাকলে বয়স কখনই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

    নিজের এই স্বপ্নপূরণের পরে গিল জানিয়েছেন, আগামী দিনে তিনি শিশুদের জন্য বই লিখবেন।‌

    পড়তে ভুলবেন না…

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More