মঙ্গলবার, জুন ২৫

নেতাদের পায়ে চুম্বন করে পোপ বললেন, শান্তিচুক্তিকে সম্মান করুন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই গৃহযুদ্ধ থেমেছে দক্ষিণ সুদানে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, ফের হানাহানি শুরু হতে পারে যে কোনও দিন। সেদেশের নেতারা ভ্যাটিকানে পোপ ফ্রান্সিসের দেখা করতে এসেছিলেন। সকলকে অবাক করে দিয়ে পোপ হাঁটু মুড়ে তাঁদের পায়ে চুম্বন করলেন। তারপর বললেন, শান্তিচুক্তি মেনে চলুন।

সুদান দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী ছিলেন মুসলিম। কিন্তু দেশের দক্ষিণ অংশে খ্রিস্টানরা বাস করতেন। সুদানের সরকারের সঙ্গে দক্ষিণ সুদানের অধিবাসীরা দীর্ঘকাল যুদ্ধ চালায়। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান পৃথক দেশ হিসাবে স্বীকৃত হয়। তার বছর দু’য়েকের মধ্যে দক্ষিণ সুদানে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। তার ফলে চার লক্ষ মানুষ নিহত হন। গৃহহীন হন ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ। ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডা সংকটের পরে আফ্রিকা মহাদেশে এত বড় উদ্বাস্তু সংকট আর কখনও হয়নি।

গত সেপ্টেম্বরে যুদ্ধরত দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দু’পক্ষের সেনাবাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতীয় সেনাবাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আগামী মাসে দু’পক্ষের ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গড়ারও কথা আছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার অভ্যুত্থান ঘটে গিয়েছে সুদানে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তার প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ সুদানে। সেখানে ফের হানাহানি শুরু হতে পারে।

বৃহস্পতিবার পোপের সঙ্গে দেখা করতে আসেন দক্ষিণ সুদানের প্রেসিডেন্ট সালভা কির, তাঁর প্রাক্তন প্রতিদ্বন্দ্বী তথা ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাশার, এবং অপর তিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। ৮২ বছরের পোপ তাঁদেরই পদচুম্বন করেন।

পোপ বহুদিন ধরে পায়ের ব্যথায় ভুগছেন। তাঁকে সহকারীরা হাঁটু মুড়ে বসতে সাহায্য করেন। দক্ষিণ সুদানের নেতাদের জুতোয় চুম্বন করে তিনি বলেন, আমি তোমাদের ভাই। ভাই হিসাবে আমি আবেদন জানাচ্ছি, তোমরা শান্তিতে থাক। আমি অন্তরের সঙ্গে তোমাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, চল আমরা এগিয়ে যাই। আমাদের অনেক সমস্যা আছে। কিন্তু সমস্যার কাছে মাথা নত করলে চলবে না।

পোপ ইতালীয় ভাষায় কথা বলেন। তাঁর এক সহকারী ইংরেজিতে অনুবাদ করে দেন। তিনি বলেন, আপনাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকবে। লড়াইও থাকবে। কিন্তু সেসব নিজেদের মধ্যেই রাখুন। মানে আমি বলতে চাইছি, আপনাদের অফিসে বসে আলোচনা করুন। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের সামনে দাঁড়ান। তাহলে আপনারা জাতির পিতা হতে পারবেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভাষণে পোপ বলেন, দক্ষিণ সুদানের মানুষ যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। নতুন দেশের প্রতি ন্যায়বিচার করা নেতাদের দায়িত্ব। পোপ শীঘ্রই দক্ষিণ সুদানে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

Comments are closed.