শনিবার, জুলাই ২০

ফের শিশুকন্যার ক্ষতবিক্ষত দেহ! আলিগড়, উজ্জয়িনীর পরে ভোপাল, গাফিলতির অভিযোগে বরখাস্ত ৬ পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে আড়াই বছরের শিশুকন্যাকে নৃশংস ভাবে ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনায় শিউরে উঠেছিল সারা দেশ। তার দু’দিন পরেই সামনে আসে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর ঘটনা। সেখানে বছর পাঁচেকের এক মেয়ের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানোর পরে তাকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল শিপ্রা নদীর জলে। শনিবার বিকেলেই তার পচা-গলা দেহ নদীর জল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এবার শিরোনামে এল ভোপাল। একই কারণে। আট বছরের ছোট্ট মেয়ের দেহ উদ্ধার হল নর্দমা থেকে৷ অনুমান, যৌন নির্যাতন করে খুন করা হয়েছে তাকে। নৃশংস শিশুহত্যার মিছিল দেখছে যেন দেশবাসী।

স্থানীয় সূত্রের খবর,শনিবার থেকে থেকে নিখোঁজ ছিল ভোপালের কমলা নগরের বাসিন্দা ওই মেয়েটি। নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের হওয়ার পরে চলছিল খোঁজ। রবিবার শিশুটির বাড়ির খুব কাছ থেকেই উদ্ধার হয় তার দেহ৷ প্রাথমিক তদন্তে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিললেও, মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরেই জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ অভিযোগ জানানো হলেও, পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পুলিশের ৬ আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে এক পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে৷

পারিবারিক সূত্রের খবর, শনিবার রাত ৮টা নাগাদ গুটখা কিনতে দোকানে গিয়েছিল বাচ্চাটি। কিন্তু ফিরে না-আসার খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পুলিশকে জানালে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বরং তারা বলে, ‘নিশ্চয়ই মেয়েটি কারও সঙ্গেই গিয়েছে।’ পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে গেলেও মেয়েটিকে না-খুঁজে সেখানেই বসেছিল বলে অভিযোগ করে তারা।

পরে রবিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারাই নর্দমা থেকে মেয়েটির দেহ উদ্ধার করেন৷ পুলিশকে খবর দেওয়া হলে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়৷ পুলিশের অনুমান, শিশুটিকে ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এর পরে তার বাড়ির কাছের নর্দমার সামনে দেহটি ফেলে রেখে যায় দুষ্কৃতীরা।

এএসপি অখিল প্যাটেল জানান, গত কাল রাত সাড়ে আটটা থেকে মেয়েটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে খবর আসে৷ পুলিশ তল্লাশি অভিযান শুরুও করেছিল৷ রবিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ দেহ উদ্ধার হয়৷ কর্তব্যে গাফিলতির জন্য ছয় পুলিশকর্মীকে বরখাস্ত ও এক জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও তিনি জানান৷

অন্য দিকে, আলিগড়ের ঘটনায় পুলিশ প্রতিবেশী পরিবারের জাহিদ ও আসলাম নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে৷ এর পরে শনিবার আরও দুই যুবককে আটক করে পুলিশ৷ আলিগড়ের কোনও উকিলই এই অভিযুক্তদের হয়ে লড়তে চাননি বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের দাবি, অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেক সদস্য মৃতার পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন৷ কোনও ভাবেই অভিযুক্তদের হয়ে সওয়াল করবেন না কেউ৷ এমনকী যদি বাইরে কোনও আইনজীবীকে নিয়ে আসা হয়, তবে তাঁকেও লড়তে দেওয়া হবে না৷

উজ্জয়িনীর ঘটনায় পুলিশ সুপার সচিন অতুলকর জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পরে জানা গেছে, শিশুটির উপরে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। ছোট্ট শরীরে ছিল অজস্র ক্ষতের দাগ। ধর্ষণের চিহ্নও স্পষ্ট। ধর্ষণের পরে মেয়েটিকে খুন করে নদীর জলে ভাসিয়ে দেয় অভিযুক্তেরা।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে এক জন শিশুটির কাকা! ধৃতদের জেরা করা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আরও কেউ এই ঘটনায় জড়িত কি না তার খোঁজ চলছে। তদন্তের জন্য স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) তৈরি করেছে পুলিশ।

Comments are closed.