বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

‘বিজেপি-তে গুটখার গন্ধ’, অতিষ্ঠ হয়ে তৃণমূলে ফিরলেন হালিশহরের আট কাউন্সিলর: ববি হাকিম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরওয়াপসি?

এই সে দিন লাইন দিয়ে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একাধিক পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলররা দিল্লি গিয়েছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরে। কিন্তু মঙ্গলবার উলটপুরাণ। হালিশহরের আট তৃণমূল কাউন্সিলর বিধানসভায় গিয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দেখা করে ফের তৃণমূলে যোগ দিলেন। মন্ত্রী বললেন, “সন্ত্রাস করে এঁদের যোগদান করানো হয়েছিল। বিজেপি-র গুটখার গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে এঁরা আবার ফিরলেন। এঁদের বুকের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ভালবাসা।”

যে ১৬ জন দিল্লি গিয়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে আট জন এ দিন ফিরলেন তৃণমূলে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন মহিলা কাউন্সিলরও রয়েছেন। হালিশহরের মোট আসন ২৩। এর মধ্যে এক কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে, একজন রয়েছেন জেলে এবং একজন বিজেপি-র। অতএব ২০ কাউন্সিলরের মধ্যে ১৬ জন যোগ দিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরে। আট কাউন্সিলর ফিরে আসায় এখন তৃণমূলের সংখ্যা দাঁড়াল ১২। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ফের হালিশহর পুরসভার দখল নিলেন তাঁরা।

এ দিন বিধানসভায় ববি হাকিমের পাশে ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুও। ফিরহাদ এ দিন বলেন, “বিজেপি সন্ত্রাস করে ওঁদের নিয়ে গিয়েছিল। কারও  কারখানা বন্ধ করেছে, কারও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছেলেকে খুনের হুমকি দিয়েছে। তখন এঁদের কাছে তৃণমূল-বিজেপি-র থেকে বেঁচে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “মিস্টার রায় আর মিস্টার সিং দিল্লির নেতাদের কাছে স্কোর বাড়াচ্ছেন। তবে এরপর যদি সন্ত্রাস করে, তাহলে অর্জুন বাহিনী থাকবে জেলের ভিতরে।” তাঁর কথায়, “এঁরা বিজেপি-তে গিয়ে ছটফট করছিল। ওই গেরুয়া ফ্ল্যাগ, গুটখার গন্ধে অতিষ্ঠ হয়েই ফিরে এসেছেন।”

এ ব্যাপারে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং বলেন, “কে কী বলছে জানি না। তবে বোর্ড ওদের হয়নি। তৃণমূল যদি মনে করে ওদের চেয়ারম্যান করবে, আমরা কালকেই অনাস্থা আনব।”

Comments are closed.