বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

ছেলের হয়ে প্রচার শুরু ডালুবাবুর, জেলা কংগ্রেসে ক্ষোভের আঁচ

বিবেক সিংহ, মালদা :  যে দিন দল ছেড়েছিলেন মৌসম নুর, সে দিনই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র ‘দ্য ওয়াল’কে জানিয়েছিলেন, উত্তর মালদা কেন্দ্রে এ বার কংগ্রেসের প্রার্থী হবেন ইশা খান চৌধুরী। মৌসমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁরা যে কোতোয়ালি ভবনের বাইরে আসবেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন সোমেনবাবু। তবে এআইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি এখনও।

দক্ষিণ মালদা কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য বসে নেই। উত্তর মালদা কেন্দ্রে ইশা খানই প্রার্থী, রাজ্য নেতৃত্বের এমন আশ্বাস পেয়েই ছেলের হয়ে নেমে পড়েছেন প্রচারে। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এ বারের উত্তর মালদা লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী হবে তাঁর ছেলেই । তিনি বলেন, “নির্বাচনের প্রচারও শুরু হয়ে গেছে । যারা কংগ্রেস কর্মী তাঁরা ঈশা খানকে পেয়ে উৎসাহিত।”  আর এই নিয়েই জেলা কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষোভের আঁচ। জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও এই কেন্দ্রে কাউকে প্রার্থী করেনি। তাঁরা যাকে প্রার্থী ঠিক করবে তার হয়েই প্রচারে নামবে দল।

তাই ডালুবাবু যখন নিজের ছেলে সুজাপুরের কংগ্রেস বিধায়ক ইশা খান চৌধুরীর হয়ে জোরকদমে প্রচারে নেমেছেন, তখন জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোস্তাক আলম দাবি করেছেন, “এআইসিসি এখনও কারও নাম অনুমোদন করেনি। কে প্রার্থী হবেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। কংগ্রেসের কিছু নিয়ম নীতি রয়েছে। সেগুলো মেনেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা হবে।”

তবে জেলা কংগ্রেসেরই একাংশের দাবি তৃণমূলের প্রাথী মৌসম নুরকে পরাস্ত করতে গনি পরিবারের সদস্যকেই দরকার। কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে গণি পরিবারের সদস্য ঈশা খান চৌধুরীর বিরোধিতা করা মানে ঘুর পথে তৃণমূল আর বিজেপিকে সহযোগিতা করা।

একই মত তৃণমূল শিবিরেও। জেলা কংগ্রেসে এই বিক্ষোভের আঁচে আখেরে শাসকদলই ফায়দা তুলবে বলে দাবি করেছেন জেলা তৃণমূল নেতা নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি। তিনি বলেন “কংগ্রেসের জেলা সভাপতির সঙ্গে সাংসদের কথার মিল নেই। যাঁরা নিজেদের ঘর সামলাতে পারেন না, তারা কী ভাবে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেবে?”

Shares

Comments are closed.