শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

নববধূকে পুড়িয়ে খুন, দশ বছরের জেল স্বামী ও শাশুড়ির

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা : পণের দাবিতে বিয়ের ৩৫ দিনের মাথায় নববধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ছিল স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর শুক্রবার তাদের দু’জনকেই ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মালদহ আদালত। বৃহস্পতিবার মালদা অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট ফোর্থ কোর্টের বিচারক ভবানীশঙ্কর শর্মা এই রায় ঘোষণা করেন। বিচারকের রায়ের পর আদালত চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন মৃত বধূ রুবি মাঝির মা বিশাখা মাঝি।

সরকারি পক্ষের আইনজীবী ইকবাল আলম আফজা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর হরিশ্চন্দ্রপুর থানার দৌলতনগরের বাসিন্দা রুবি মাঝির (১৯) সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ইংরেজবাজার থানার আমজামতলা এলাকার বাসিন্দা বিকাশ মণ্ডলের। বিয়ের ৩৫ দিনের মাথায় ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ওই বধূর অগ্নিদগ্ধ দেহ। ১৩ জানুয়ারি রুবির মা বিশাখা, জামাই বিকাশ ও শাশুড়ি সাবিত্রী মণ্ডলের বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পণের দাবিতে তাঁর মেয়েকে তারা পুড়িয়ে খুন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপরই শুরু হয় মামলা।

আইনজীবী ইকবাল আলম আফজা বলেন, ‘‘ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই ৪৯৮(এ) এবং ৩০৪(বি) ধারায় মামলা রুজু হয়। তিন বছরের মধ্যেই ওই বধূ খুনের ঘটনার মামলার নিষ্পত্তি করল মালদহ অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট ফোর্থ কোর্ট । মঙ্গলবার বিকাশ মণ্ডল এবং সাবিত্রী মন্ডলকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। বৃহস্পতিবার দোষীদের এই সাজা শোনানো হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষী দেন।’’

রুবির মা বিশাখা বলেন, ‘‘বিয়ের পরদিন থেকেই সোনার গয়না, নগদ টাকার জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতন শুরু করে জামাই এবং শাশুড়ি। মেয়ে কান্নাকাটি করে সব জানাতো। বিয়ের একমাস ঘুরতেই ওরা গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করে আমার মেয়েকে। আজকে আদালত ওদের কঠোর শাস্তি দিয়েছে। তবে ফাঁসি হলে আরও ভালো হতো ।’’

Comments are closed.