রবিবার, ডিসেম্বর ১৫
TheWall
TheWall

নয় বধূর মাতৃ আরাধনা ঘিরে মেতে উঠল মনিরামবাটি

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান : তিনি দুর্গতিনাশিনী। দানবদলনী। আদ্যাশক্তি মহামায়া। হিন্দু পুরাণ অনুসারে ন’টি ভিন্ন রূপে পূজিতা হন দেবী দুর্গা। শৈলপুত্রী, চন্দ্রঘণ্টা, ব্রহ্মচারিণী, স্কন্দমাতা, কুম্মাণ্ডা, কালরাত্রি, কাত্যায়নী, মহাগৌরী এবং সিদ্ধিদাত্রী- এই হল দেবীর নয় রূপ।

জামালপুরের মনিরামবাটির মানুষ চাক্ষুষ করলেন অন্য দুর্গা। এই নয় রূপেই যেন তাঁর প্রকাশ। নয় নারীর একান্ত ইচ্ছায় দুর্গা আরাধনা শুরু হয়েছে মনিরামবাটি গ্রামে। এতদিন পুজো হত গ্রামের জমিদার বাড়িতে। সে পুজো হয় এখনও। তবে ক্ষয়িষ্ণু ঐশ্বর্য্যের সঙ্গে তাল রেখে গ্রামের মানুষের অবাধ অংশগ্রহণের বড় একটা সুযোগ আর করে দিতে পারেন না জমিদার বাড়ির এখনকার প্রজন্ম। তাই বড় ভালো হত যদি নিজেদের মতো করে আয়োজন করা যেত দুর্গা আরাধনার। এ ভাবনা সেই কতদিন ধরে জারিত হয়েছে মনে মনে। পুজো তো শুরু হল মাত্র চার বছর।

গ্রামের দুর্গা মাতা মহিলা সমিতির সম্পাদক কুমকুম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘গ্রামে দুর্গা পুজো না হওয়ায় আগে সবাই আফসোস করতো। তা সত্ত্বেও গ্রামের পুরুষরা কেউই পুজোর উদ্যোগ নেয়নি। মণিরামবাটির জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো নিয়েই শারদোৎসবের দিনগুলি কাটাতে বাধ্য হতেন গ্রামের মানুষ।’’

চার বছর আগে গ্রামের নয় বধূ মিলে ঠিক করেন মাতৃ আরাধনা করবেন তাঁরা। এরজন্য কম কটুক্তি সহ্য করতে হয়নি কুমকুম, চিন্ময়ী, টগরী, মিনতি, অপর্ণা, ঝর্না, কৃষ্ণা ও দুই সাধনাকে। কিন্তু কিছুই টলাতে পারেনি। ‘‘চার বছর ধরে পুজো তো করছি আমরা। এখন গোটা গ্রামের মানুষ এই পুজোকে ঘিরেই মেতে ওঠেন উৎসবে। সবাই সারা বছর ধরে অপেক্ষা করেন পুজোর জন্য।’’ বললেন কুমকুম।

বাজেট সামান্য হলেও ভক্তিভাব ও আন্তরিকতায় নয় বধূর পুজো টেক্কা দিচ্ছে বড় বাজেটের পুজো আয়োজকদেরও। প্রশাসনের রীতিনীতি মেনে পুজো আয়োজনের জন্য এ বার মা দুর্গা মহিলা সমিতিকে বিশেষ ভাবে পুরস্কৃত করেছে জামালপুর থানা। মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় পুলিশ কর্তারা মা দুর্গা মহিলা সমিতির সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রথমবার এমন পুরস্কার পেয়ে আপ্লুত মণিরামবাটি গ্রামের বধূরা।

চিন্ময়ী নন্দী, সাধনা কর্মকাররা জানান, এ বছর তাঁদের পুজোর বাজেট মাত্র ৪৫ হাজার টাকা। তার মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন ৩০ হাজার টাকা। নয় বধূ মিলে গ্রামের ১১৪ ঘর বাসিন্দার বাড়ি বাড়ি ঘুরে চাঁদা তুলেছেন বাকিটা। সামান্য সেই চাঁদার অর্থ এবং বাকিটা নিজেদের থেকে দিয়ে বধূরা মিলে এ বারও আয়োজন করেছেন দুর্গা উৎসবের। আর সেই উৎসব ঘিরে মেতে উঠেছে মনিরামবাটি। ঠিক আগের চার বছরের মতোই।

Comments are closed.