বুধবার, জুন ২৬

The Wall Impact: যুবককে মারধরের ঘটনায় আলিপুরদুয়ারের ডিএম-কে ছুটিতে পাঠাল নবান্ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: থানার ভিতর যুবককে পেটাচ্ছেন জেলাশাসক। সঙ্গ দিচ্ছেন তাঁর স্ত্রী। আর পুলিশ তখন নির্বাক দর্শক। রবিবার রাতে দ্য ওয়াল সবার আগে এই খবর প্রকাশ করেছিল। ভাইরাল হয়ে গিয়েছে ওই ভিডিও। আর সেই খবরের জেরেই ৭-১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসক নিখিল নির্মলকে ছুটিতে পাঠালো নবান্ন। এই সময়ে জেলাশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) চিরঞ্জীব ঘোষ।

জেলাশাসকের স্ত্রীকে ফেসবুকের একটি গ্রুপে অশালনীন মন্তব্য করার অভিযোগে ফালাকাটা থানার পুলিশ গ্রেফতার করে বিনোদ সরকার নামের এক যুবককে। এরপর সস্ত্রীক থানায় গিয়ে জেলাশাসক নির্মমভাবে পেটাতে থাকেন ওই যুবককে। বাদ যাননি তাঁর স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণণও। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবার রাতে নন্দিনী একটি দীর্ঘ লেখা ফেসবুক পোস্টে করেন। যার সারমর্ম, যা করেছেন ঠিক করেছেন।

হইহই পড়ে যায় উত্তরবাংলার ছোট্ট জেলাটিতে। কেউ কেউ বলেন, আইনের রক্ষক হয়ে, নিজেই আইন ভেঙেছেন জেলাশাসক। তাঁর এক্তিয়ার নেই থানায় গিয়ে কাউকে মারার। কেউ আবার বলেন, যে ভাবে ওই যুবক একজন মহিলাকে অশালীন মন্তব্য করেছেন, তাতে এরকমই করা উচিত। ওই ভিডিও ফুটেজে জেলাশাসককে বলতে শোনা যায়, “আমার জেলায় কেউ আমার উপর কথা বলবে না।” তোলপাড় পড়ে যায় প্রশাসনে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা অংশের মানুষ দাবি তোলেন, ওই যুবকের যা শাস্তি হওয়ার, তা তো হবেই। কিন্তু ব্যবস্থা নিতে হবে জেলাশাসক এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধেও।

অভিযুক্ত যুবকক বিনোদ সরকারকে এ দিন আদালতে তোলার সময়, কোর্ট চত্বরে তিনি বলেন, “ফেসবুকের একটি গ্রুপে আমাকে আগে গালিগালাজ করেছিলেন উনি। তারপর আমি করি। আমি জানতাম না উনি ডিএম-এর স্ত্রী।” সঙ্গে এ-ও বলেন, “আমি যদি দোষী হই, তাহলে আদালতে তার বিচার হবে। কিন্তু ডিএম এবং তাঁর স্ত্রী কেন আমায় মারলেন?” এ দিন বিচারক, ধৃত বিনোদ সরকারের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

সোমবার সকাল থেকেই ‘উধাও’ হয়ে যান সস্ত্রীক নিখিল নির্মল। অফিসে তো যানইনি, পাওয়া যায়নি বাংলোতেও। জেলাশাসকের বাংলোর নিরাপত্তারক্ষীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “স্যার আর ম্যাডাম কোথায় গিয়েছেন বলতে পারব না।” জবাব মেলেনি জেলা প্রশাসনের কর্তাদের থেকেও। যত সময় গড়ায়, নিখিল নির্মল এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার দাবিতে সরব হন নেটিজেনরা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে নিখিল এবং নন্দিনীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করার দাবি জানান শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অশোক ভট্টাচার্য। অবশেষে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলাশাসককে ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশিকা দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

Comments are closed.