রবিবার, নভেম্বর ১৭

ডিএ দিতে নির্দিষ্ট ফর্মুলা বানাতে হবে, রাজ্যকে সুপারিশ বেতন কমিশনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই রাজ্যে সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার দাবিতে বিতর্ক অনেক দিনের। বাম জমানা থেকে মমতা জমানা, সব সময়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এখনও কর্মীদের বক্তব্য, সঠিক সময়ে ও সঠিক হারে ডিএ মিলছে না। সেই বিতর্কের সমাধান চেয়ে এবার নির্দিষ্ট ফর্মুলা তৈরির সুপারিশ করল ষষ্ঠ বেতন কমিশন। সম্প্রতি কমিশন রিপোর্টের প্রথম অংশ জমা দিয়েছে। আর তাতেই বলা হয়েছে, নিয়মিত ডিএ দিতে নির্দিষ্ট ফর্মুলা বানাক নবান্ন।

কেন্দ্র যেমন অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী ডিএ বাড়ায়। এটাই কেন্দ্রের ফর্মুলা। বহু রাজ্যই ওই একই ইনডেক্স মেনে ডিএ বাড়ায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এমন কোনও নির্দিষ্ট নীতি বা ফর্মুলা নেই। এবার সেটাই চাইল কমিশন।

কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে কোর্ট কাছারি অনেক হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী কমিশনের সুপারিশ ঘোষণার সময়ে জানিয়েছেন, ডিএর বিষয়টি তিনি পরে দেখে নেবেন। এনিয়ে নানা জল্পনা কর্মচারী মহলে। ওই মামলা চলার সময়ে আদালতে বারবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডিএ আদৌ কর্মচারীদের প্রাপ্য নয়। অন্য দিকে, কর্মচারীদের পক্ষে বলা হয়, এটা হকের পাওনা। শেষে অবশ্য কর্মচারী সংগঠনের দাবিই আদালতে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রথমে হাইকোর্ট ও পরে রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (স্যাট) জানিয়েছে, ডিএ কোনও দয়ার দান নয়, কর্মচারীদের নায্য দাবি।

এই মামলার সময়ে বারবারই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কেন্দ্রীয় হারেই ডিএ দিতে হবে কিনা প্রশ্নে। বারবারই একটি বিষয় সামনে এসেছে যে, মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও নীতি বা ফর্মুলাই নেই রাজ্যের। স্যাট রায় দানের সময়ে এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কোনও ফর্মুলা তৈরি হোক। একই সরকারের কর্মী হয়ে বাংলার বাইরে দিল্লি বা অন্য রাজ্যে কর্মরতরা বেশি ডিএ পাবেন এটা ঠিক নয়। এবার সেই একই কথা বলল বেতন কমিশনও।

এ ব্যাপারে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকার বলেন, “কেন্দ্রের মতো অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স মেনেই যে ডিএ বাড়াতে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। সরকার তার নিজস্ব ফর্মুলা বার করতে পারে।” উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারকে স্যাট তিন মাসের মধ্যে কোনও একটি ফর্মুলা বানানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সঙ্গে বলে ছ’মাসের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এক বছরের মধ্যে বকেয়া ডিএ দিতে হবে। এখনও পর্যন্ত অবশ্য স্যাটের নির্দেশ মেনে সরকারের তরফে কোনও ফর্মুলা তৈরির উদ্যোগের কথা শোনা যায়নি। এখন সেই চাপের মধ্যেই নতুন চাপ তৈরি হল কমিশনের সুপারিশে।

তবে বেতন কমিশন ডিএ-র হার বা পরিমাণ নিয়ে কোনও রকম চাপই দেয়নি সরকারকে। জানিয়েছে, রাজ্য সরকার তার সিদ্ধান্ত মতো ডিএ দিতে পারে। বছরে ক’বার ডিএ বাড়বে সে ব্যাপারেও কোনও সুপারিশ করেনি।

স্যাট অবশ্য, আগে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে তার পরে বেতন কমিশন চালুর নির্দেশ দিয়েছিল। সরকার যদিও সে পথে না হেঁটে আগে কমিশনের সুপারিশ লাগু করতে চলেছে। এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্যই করতে চাননি অভিরূপ সরকার।

রাজ্য সরকারি কর্মচারী মহলের একটা বড় অংশের বক্তব্য, নতুন বেতন কমিশন চালুর সময়ে ডিএ বেসিকের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যাচ্ছে। আগে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে বেতন কমিশন লাগু হলে কর্মচারীদের অনেক বেশি লাভ হত। বেসিক অনেকটা বৃদ্ধি পেত। যদিও নবান্ন সূত্রে খবর, বকেয়া ডিএ দ্রুত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ, রাজ্য ইতিমধ্যেই স্যাটের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Comments are closed.