তিন রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি আরও ঘোরালো, ওয়ানাড়ে যাচ্ছেন রাহুল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত এক সপ্তাহে প্রবল বন্যায় ভাসছে কেরল, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্র। তিন রাজ্যে মারা গিয়েছেন ১০০ জনের বেশি। গৃহহারা হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। কয়েক হাজার কোটি টাকার ফসল ও অন্যান্য সম্পদ নষ্ট হয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কেরলে। সেখানে শনিবার পর্যন্ত ৬৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে দু’দিন বন্ধ থাকার পরে কোচি বিমান বন্দর ফের চালু হয়েছে রবিবার। এদিন সন্ধ্যায় নিজের লোকসভা কেন্দ্র ওয়ানাড়ে যাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি ত্রাণের কাজ তদারক করবেন।

    এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আকাশপথে কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলার বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা শনিবার জানিয়েছেন, বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে দু’লক্ষ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজ্যে মারা গিয়েছেন ৩০ জন।

    কর্ণাটকে ১৭ টি জেলার এক হাজার গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় যে পরিমাণ সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে, তার মূল্য ৬ হাজার কোটি টাকা। কর্ণাটকে আস্থাভোটে জিতে দু’সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় এসেছে ইয়েদুরাপ্পা সরকার। কিন্তু এখনও মন্ত্রিসভা গঠিত হয়নি। কংগ্রেস ও সেকুলার জনতা দলের নেতা এইচ ডি কুমারস্বামীর অভিযোগ, এজন্যই বন্যায় ত্রাণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য রাজ্যের সব শিক্ষায়তন ১৫ অগাস্ট অবধি বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শনিবার কারওয়ার অঞ্চলে ধস নামে। ফলে কোঙ্কন রেলওয়ে দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়। মুম্বইয়ের সঙ্গে বেঙ্গালুরুর সংযোগ রক্ষাকারী চার নম্বর জাতীয় সড়ক এখনও বন্ধ আছে। মুম্বই থেকে যে গাড়িগুলি কর্ণাটকের দিকে যাচ্ছে, তাদের বলা হয়েছে সোলাপুর দিয়ে ঘুরে যেতে।

    শনিবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেন, এবছর অভুতপূর্ব বৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ২০০৫ সালে অতিবৃষ্টির জন্য বন্যা হয়েছিল। এবার তার ডবল বৃষ্টি হয়েছে। একটি সূত্রের খবর, রাজ্যে এবার বন্যায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যাদুর্গত কোলাপুরে এখনও আটকে আছেন কয়েকশ মানুষ। বন্যায় রাজ্য জুড়ে গৃহহারা হয়েছেন চার লক্ষ মানুষ।

    কেরলের মালাপ্পুরম জেলার কাভালাপারা অঞ্চলে ধস নেমে বহু মানুষ আটকে আছেন। তাঁদের উদ্ধার করতে পাঠানো হয়েছে সেনাবাহিনী। আপাতত বৃষ্টি কমেছে। কিন্তু এখনও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে ওয়ানাড়, কান্নুর ও কাসারগড় জেলায়। রবিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানিয়েছেন, বন্যাদুর্গত ২ লক্ষ ২৫ হাজার মানুষ ১৫৫০ টি ত্রাণশিবিরে আছেন। তিনি বলেন, এই দুর্যোগের সময় রাজনৈতিক মতবিরোধের কথা ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More