বুধবার, ডিসেম্বর ১১
TheWall
TheWall

রাস্তার ধারের শৌচালয়ই তাঁর ঘরবাড়ি! প্রায় দু’দশক ধরে সেখানেই রয়েছেন বৃদ্ধা

  • 19
  •  
  •  
    19
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়োজন ছাড়া বোধ হয় শৌচালয়ে কেউ-ই সময় কাটান না। আর সেটা যদি হয় রাস্তার ধারের গণ-শৌচালয়, তা হলে তো নিতান্ত দরকার ছাড়া সেখানে কেউ যান না। কিন্তু সে রকম একটি শৌচালয়েই ১৯ বছর ধরে রয়েছেন এক মহিলা!

তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে রামনাদ এলাকার একটি শৌচালয়ে ৬৫ বছরের বৃদ্ধার দিনযাপনের কথা সামনে আসতেই বিস্ময়ের তুঙ্গে নেট-দুনিয়া। জানা গেছে, এক রকম বাধ্য হয়েই এখানে থাকতে হয় বৃদ্ধা কারুপ্পায়িকে। কারণ তাঁর কোনও থাকার জায়গা নেই, দেখভাল করার মতোও কেউ নেই। তবে কেউ দেখভাল করতে চাইলেও তাতে রাজি নন জেদি কারুপ্পায়ি। কারও সাহায্য নিতে চান না তিনি। শৌচালয় পরিষ্কার করে যে টাকা পান, তাতেই চলে যায় তাঁর। সেখানেই থাকেন তিনি।

এক সময়ে ঘর সংসার থাকলেও, ভাগ্যের ফেরে সবই হারান তিনি। মেয়েকে কষ্ট করে বড় করলেও, বিয়ের পরে আর দেখেনি মাকে। প্রথম জীবনে পথে পথে ঘুরেছেন, রাস্তায় থেকেছেন। শেষমেশ মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে শৌচালয়েই থাকতে শুরু করেন তিনি। সে-ও হয়ে গেল প্রায় দু’দশক।

তবে বৃদ্ধা কারুয়াপ্পির দুর্দশা দেখে অনেক দিন ধরেই অনেক মানুষই তাঁকে সাহায্য করার জন্য জন্য হাত বাড়িয়েছেন। কিন্তু বরাবরই তা নাকচ করে দিয়েছেন ওই বৃদ্ধা। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে কারুপ্পায়ি জানিয়েছেন, তিনি কারও মুখাপেক্ষী হতে চান না। ওই শৌচালয় পরিষ্কার করে পাওয়া টাকাই তাঁর রোজগারের উপায়। প্রতিদিন ৭০-৮০ টাকা মতো পান তিনি। তাই দিয়েই চলে যাচ্ছে, অন্য কোথাও গেলে বরং অনিশ্চয়তা বাড়বে।

কারুপ্পায়ির দাবি, তিনি সিনিয়র সিটিজ়েন ভাতার জন্য বেশ কয়েক বার আবেদন করেছিলেন সরকারের কাছে। এমনকী জেলাশাসকের দফতরেও গিয়ে জানিয়েছেন দুরবস্থার কথা। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। তাই খানিক অভিমানেই শৌচালয়ে থাকতে শুরু করেন তিনি।

ওই এক চিলতে জায়গাতেই রয়েছে তাঁর বিছানা, কিছু শাড়ি। কয়েকটি বাসনও রয়েছে, খাওয়াদাওয়া করার জন্য। আছে জলের পাত্র। শৌচালয়ে বৃদ্ধার থাকার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন কেউ, তার পরেই অনেকে জানতে পারেন তাঁর এই অবস্থার কথা। এর পরে আরও বহু মানুষ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বৃদ্ধাকে সাহায্য করতে এগিয়েও এসেছিলেন। তবে, তাঁর ওই এক জেদ। ছাড়বেন না নিশ্চিত আশ্রয়, সাহায্যও নেবেন না কারও।

Comments are closed.