মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেনে চলুন হাফ ডজন নিয়ম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীরের নাম মহাশয়, যাহা সহাবে তাহাই সয়।  এই প্রচলিত বাক্য আজকাল আর বিশেষ কাজ করে না বোধহয়।  তাই আমাদের খাওয়া দাওয়ায় যথেষ্ট হ্রাস টানতে হচ্ছে।  ডায়াবেটিস বা রক্তে গ্লুকোজ়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এমন একটি সমস্যা, যে ওই রোগ হলে কান টানলে মাথা আসার মতো নানা সমস্যা একসাথে আসতে থাকে।  এই ঘাতক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী করছেন আপনি? ডায়েটিশিয়ান জেন্টি গোবেনি বলছেন, কিছু টিপস্ মেনে চললে, সমস্যা বাড়বে না আর।  রাসায়নিক মেশানো মিষ্টি খাবার, বা সিন্থেটিক ফুডের বদলে আপনি যদি ফল, দুধের উপর ভরসা রাখেন, তাহলে সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে।

জেনে নিন সেই ছয় উপায়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে

ধীরে চলো নীতি

আপনি এমনিতে হয় তো খুব মিষ্টি খান বা চিনি খান খাবারে, হঠাৎ করে যদি সেটা বন্ধ করেন, তাহলে তো সহজ হবে না একটানা এই চিনি না খেয়ে থাকা।  তাই আস্তে আস্তে কমাতে থাকুন এই অভ্যাস।  কেক, পেস্ট্রি, মাফিন,মিষ্টি ছেড়ে দিন আস্তে আস্তে।  কফিতে ক্রিম বা চিনিও কমাতে থাকুন।  চা তে ছেড়ে দিন চিনি।  এই সবকিছুই হঠাৎ করে আপনি পারবেন না।  কিন্তু ধীরে ধীরে চেষ্টা করলে পারবেন।  আর সেটা বহুদিন পর্যন্ত পারবেন মেনে চলতে, ফলে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।

ফুড লেবেলে লেখাগুলো পড়ুন

কৃষ্ণের যেমন ১০৮ টা নাম আছে, চিনিরও কিন্তু ৬১ টা নাম থাকে।  অবাক হচ্ছেন তো! হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন, খাবারে যে ফুড লেবেল করা থাকে, তাতে নানা নামে চিনির উল্লেখ থাকে।  ব্রাউন বা হোয়াইট সুগার, কোকোনাট সুগার, ম্যাপল সিরাপ, বিট সুগার, হানি অ্যাণ্ড কর্ণ সিরাপ—এত কিছু জানতেন আপনি? আবার ওই লেবেলেই কোথাও যদি কোনও শব্দে দেখেন, যার শেষ হচ্ছে ose দিয়ে, যেমন গ্লুকোজ়, সুক্রোজ়, ডেক্সট্রোজ়, ল্যাকটোজ়, ফ্রুক্টোজ়—এগুলো মানেও কিন্তু রাসায়নিকভাবে চিনি দেওয়া আছে ওই খাবারে।  তাই চোখ খোলা রেখে খাবার কিনুন।  লেবেল পড়ে নিন।

তরলে চিনি এড়িয়ে চলুন

খাবারে না হয় চিনি এড়িয়ে গেলেন, কিন্তু প্রচণ্ড গরমে রোদে ঝলসে বাড়ি বা গন্তব্যে পৌঁছেই তো কোনও সোডা, কোলা বা নুন চিনি লেবুর সরবৎ খেতে শুরু করেন।  তখনই তো শরীরের বারোটা বাজিয়ে ফেললেন, ওই সুইটনার এবং চিনি আপনার সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।  তাই চেষ্টা করুন নুন মধু লেবুর সরবৎ খেতে।  এতে ক্ষতি কম হয়।  অনেকেই কফি, চা, ফ্রুটজুস খেতে পারেন না চিনি না মিশিয়ে, তাতে তো অসুবিধা।  চেষ্টা করুন এই চিনি না মেশাতে।  তাতে প্রথমদিকে একটু স্বাদের অসুবিধে হলেও, আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে যাবে।  আর সুগার লেভেলও আয়ত্তে থাকবে।  বরং এ সময়ে প্রচুর পরিমাণে জল খান, তাতে আপনার শরীর হাইড্রেটেডও থাকবে আর সমস্যাও কমবে।

সিম্পল কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন

সিম্পল কার্বোহাইড্রেট যেগুলো আছে, চেষ্টা করুন এড়িয়ে চলতে।  ময়দা, হোয়াইট পাস্তা, হোয়াইট রাইস না খাওয়াই ভালো।  এই খাবারগুলো শরীরের ভিতরে গিয়ে তাড়াতাড়ি ভেঙে যায়, এবং সুগার তৈরি করে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।  ফলে ব্লাড সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়।  তাই এগুলোর বদলে খান হোল গ্রেন ফুড।  আর  সুগার রাখুন নিয়ন্ত্রণে।

প্ল্যান ডায়েট মিল-এ ভরসা রাখুন

যখনই আপনি খাবারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আনছেন, ভাজাভুজি খাবার, বা আনহেল্দি খাবারের প্রতি আপনার ঝোঁক বেড়ে যাচ্ছে।  কী করবেন তাহলে! প্ল্যান করুন খাবারের ক্ষেত্রে।  সারা সপ্তাহে নিজেকে সংযমে বাধলেও, সপ্তাহে একদিন রাখুন, যখন পরিবারের সঙ্গে যাচ্ছেন শপিং করতে, তাতে বেশ কিছুটা ক্লান্তও থাকছেন, আর তৈরি করা খাবার যখন খাবেন সকলে মিলে একসাথে, দেখবেন ক্যাণ্ডি বা সোডার প্রতি আপনার তেমন একটা আগ্রহ কাজ করছে না।  এতে ব্লাড সুগার কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

স্বাদ অনুযায়ী মশলা দিন খাবারে

আপনি তো খাবার থেকে মিষ্টি বা চিনি বাদ দিয়ে দিলেন, কিন্তু স্বাদে তো সমস্যা হচ্ছে।  কী করবেন? কিছুই না, দারচিনি বা ভ্যানিলা মিশিয়ে নিন কফি থেকে শুরু করে যে কোনও খাবারে, এতে আপনার স্বাদের সমস্যাও মিটল আবার সুগারও রইল আয়ত্তে।  চাইলে দই বা ওটমিলেও দিতে পারেন এই দারচিনি ও ভ্যানিলা।

অতএব অনায়াসেই আপনি পারেন, এভাবে সুগার লেভেল কমিয়ে রাখতে।  এই ছটি উপায় কঠিন নয় বিশেষ।  তাই আজ থেকেই চেষ্টা করে দেখবেন নাকি?

Comments are closed.