রাজ্যে আরও ১০ কোভিড আক্রান্তের খোঁজ, সন্ধের পর মৃত্যু হয়েছে দু’জনের, করোনা পজিটিভ বেড়ে ৩৭, মৃত ৫

মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যাটা ছিল ২৭। রাতে সেটাই বেড়ে হয়ে গেল ৩৭।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় করোনাভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল ২৭। তখনও ইতিবাচক বিষয় ছিল যে এদিন বিকেলেই তিন জন আক্রান্তকে সুস্থ ঘোষণা করে বাড়ি পাঠানো হয়। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতেই যে ভাবে এনআরএস এবং হাওড়ার গোলাবাড়ি থেকে মৃত্যু সংবাদ এসেছে তাতে উদ্বেগ বেড়েছে স্বাস্থ্য ভবনের। সেই সঙ্গে আরও আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে আরও, মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭। এক কথায় বলতে গেলে, শুধু মঙ্গলবারই আক্রান্তের সংখ্যা আরও দশ জন বেড়ে গেল। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৫।

    মঙ্গলবার সকালে জানা গিয়েছিল, টালিগঞ্জের এক মহিলা ঢাকুরিয়া আমরি হাসপাতালে ভর্তি আছেন তার শরীরে নোভেল করনা ভাইরাসের সংক্রমণ মিলেছে এসএসকেএমের পরীক্ষাগারে। পঞ্চাশের বেশি বয়স এক ব্যক্তি ভর্তি সল্টলেক আমরি হসপিটালে, তাঁর শরীরেও সংক্রমণ মিলেছে। পশ্চিম মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি থাকা এক যুবকের আক্রান্ত হওয়ারও খবর আসে। পাশাপাশি জানা যায়, হাওড়া জেলা হাসপাতালে মৃত মহিলার রিপোর্ট পজিটিভ। সব মিলিয়ে ততক্ষণে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৭। মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩।

    কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরেই গোটা চিত্রটি বদলে যায়। আরও ১০ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর মেলে। যার মধ্যে এদিন সন্ধ্যায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ৫২ বছরের এক ব্যক্তিকে দিন হাওড়ার গোলাবাড়ি আইএলএস হাসপাতালে মারা যান। অন্যদিকে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ৬২ বছরের আরও এক ব্যক্তি। এদিন সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পরে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, করোনা আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন তিনি।

    পাশাপাশি খবর আসে, আলিপুরের কমান্ড হাসপাতালের আক্রান্ত চিকিৎসকের ছেলে, মেয়ে এবং স্ত্রী– তিন জনের শরীরে মিলেছে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এছাড়াও শ্রীরামপুরের দুই ব্যক্তির শরীরেও মিলেছে করোনা-সংক্রমণ। এগরাতেও এক ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণ মিলেছে। আরজিকর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক ব্যক্তির শরীরে মিলেছে সংক্রমণ। দমদম আইএলএস হাসপাতালে ইতালির মিলান ফেরত এক প্রবীণের শরীরে মিলেছে সংক্রমণ।

    স্বাস্থ্য ভবনের মঙ্গলবার সন্ধের বুলেটিন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে আরও ৮৭ জনকে। সেইসঙ্গে ৫২ জনের রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে পজিটিভ রেজাল্ট পাওয়া গিয়েছে পাঁচ জনের। সোমবার রাতে হাওড়ার হাসপাতালে যে রোগীর মৃত্যু হয়েছে তাঁর শরীরের নমুনা পরীক্ষা করেও পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে।

    স্বাস্থ্য ভবনের এ দিনের বুলেটিনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলার বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩৮ জনকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। গৃহ নজরে রাখা হয়েছে মোট ১,৪৭,৭৭৭ জনকে।

    কেন এত জনকে গৃহ নজরে রাখার প্রয়োজন হল তার কারণও ঘরোয়া ভাবে ব্যাখ্যা করছেন স্বাস্থ্য ভবনের কর্তারা। তাঁদের কথায়, এই যে ২৭ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে, এঁরা প্রত্যেকেই কম বেশি বহু মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন। যেমন উত্তরবঙ্গের মহিলা বা হাওড়ার যে মহিলার মৃত্যু হয়েছে এঁরা অনেকের সংস্পর্শে এসেছেন বলে আশঙ্কা।

    স্বাস্থ্য ভবনের কর্তারা বারবার বলছেন, আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই। সোশাল ট্রান্সমিশন এখনও বাংলায় হয়নি। যা হয়েছে তা লোকল ট্রান্সমিশন। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যের প্রত্যেকটি মানুষকে নিজের স্বার্থেই সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। বাড়ি থেকে পারতপক্ষে না বেরোলে অর্থাৎ সামাজিক সংস্রব এড়িয়ে চলতে পারলে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা কম থাকবে। সেই সঙ্গে কারও শরীরে সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে তাঁকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আর বাইরের রাজ্য বা দেশ থেকে যাঁরা এসেছেন তাঁরা যেন অন্তত চোদ্দ দিন বাড়ি থেকে না বেরোন। এমনকি পরিবারের সদস্যদের থেকে দূরত্ব রেখে চললেও ভাল। এতে উপকার সকলেরই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More