পুড়িয়ে মারা হল দুটি শাবক-সহ একটি কুকুরকে, এনআরএস কাণ্ডের ছায়া এ বার বর্ধমানে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: এনআরএস কাণ্ডের ছায়া এ বার বর্ধমানে। সদ্যোজাত দু’টি বাচ্চা ও একটি গর্ভবতী কুকুরকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল শহরের গোদা এলাকায়। এবং এ বারও অভিযুক্ত এক মহিলা। এই ঘটনায় বর্ধমান শহরের পশুপ্রেমী সংগঠন অ্যানিম্যালস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

    পুলিশসূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার গোদার খন্দকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আশিয়া বিবির একটি পোষা মুরগি খেয়ে ফেলে কুকুর। সেই আক্রোশে নৃশংসভাবে একটি গর্ভবতী কুকুর ও সদ্যোজাত দুই বাচ্চাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। ছোট বাচ্চা দুটি তখনই মারা যায়। অগ্নিদগ্ধ কুকুরটি সোমবার বিকেলে তিনটি মৃত সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মারা যায়। ঘটনার খবর পৌঁছে যায় ওই পশুপ্রেমী সংগঠনের কাছে। তারা ঘটনাস্থল থেকে মৃত কুকুরগুলির দেহ উদ্ধার করে কার্জনগেটের কাছে পশু হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। মঙ্গলবার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারপর থেকেই গোটা পরিবার নিয়ে বাড়ি ছেড়েছেন আশিয়াবিবি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।

    চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এনআরএস হাসপাতাল চত্বর থেকে উদ্ধার হয়েছিল বস্তাবন্দি ১৬টি কুকুরছানার দেহ। গত ১৩ জানুয়ারি রবিবার এনআরএস হাসপাতাল চত্বরে বড় বড় কয়েকটা কালো প্লাস্টিকের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন এক হাসপাতাল কর্মীর স্ত্রী পুতুল রায়। প্যাকেটগুলির পাশেই বসে ছিল একটি মা-কুকুর। পুতুলদেবীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি উঁকিঝুঁকি দেন প্যাকেটগুলিতে। একটি খোলা মুখের ভিতরে কুকুরছানা দেখতে পান তিনি। কৌতূহলী হয়ে বাকি প্যাকেটের মুখগুলি খুলতেই দেখতে পান কয়েক সপ্তাহ বয়সের ১৬টি কুকুরছানা মৃত অবস্থায় বন্দি। ঘটনা নিয়ে শহর জুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। এমন নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল শহরের সাধারণ মানুষ থেকে বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠন। অশান্তির আঁচ পৌঁছে যায় দিল্লিতে মানেকা গান্ধীর দফতরেও।

    তখনই প্রকাশ্যে আসা একটি নৃশংস ভিডিওতে দেখা যায় কুকুরছানাগুলির মাকেই প্রথমে নিশানা বানিয়েছিল নার্সিংয়ের এই দুই ছাত্রী মৌটুসী মণ্ডল ও সোমা বর্মন। ১৫ জানুয়ারি নার্সিংয়ের দুই পড়ুয়া মৌটুসী ও সোমাকে  গ্রেফতার করে এন্টালি থানার পুলিশ। দফায় দফায় চলে জেরা। পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকারও করে নেয় মৌটুসী এবং সোমা। কিন্তু আদালতে তোলা হলে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান দুই ছাত্রীই। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়, তদন্ত সম্পূর্ণ হতে মাস দুয়েক সময় লাগবে। তাই এই দু’মাস ক্লাস করতে পারবেন না এই দুই ছাত্রী। দু’মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয় তাঁদের।

    এরপর শুরু হয় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। অবশেষে ঘটনার ন’মাস পর গত ৩১ অক্টোবর চার্জশিট দেয় এন্টালি থানার পুলিশ। শিয়ালদহ আদালতে জমা দেওয়া ২০৪ পাতার চার্জশিটে নার্সিংয়ের দুই ছাত্রী মৌটুসি মণ্ডল এবং সোমা বর্মনের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।  চার্জশিটে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২৯ ও ২০১ ধারায় পশু খুন ও তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে মৌটুসি এবং সোমার বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ১১এল ধারায় প্রিভেনশন অফ ক্রুয়েল্টি টু আনিম্যাল ধারা দেওয়া হয়েছে এই দু’জনকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More