গরুর পেট থেকে ৫২ কেজি প্লাস্টিক বার করলেন পশুচিকিৎসকরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরুর পেট কেটে ৫২ কেজি প্লাস্টিক বার করলেন পশুচিকিৎসকরা। শুধু প্লাস্টিক নয়, চেন্নাইয়ের অদূরে তিরুমুল্লাইবয়ালের ওই গরুটির পেট অপারেশন করে সূচ পর্যন্ত পেয়েছেন পশুচিকিৎসকরা।

গরুটির কী সমস্যা হচ্ছে তাঁরা প্রথম দিকে বুঝেই উঠতে পারছিলেন না। গরুটি না পারছিল খেতে, না পারছিল ঠিক করে দুধ দিতে।

মাস ছয়েক আগে ভেলোর থেকে ওই গরুটি কেনেন পি মুনিরথানম নামে এক ব্যক্তি। দিন ২০ আগে সে একটি বাছুরের জন্ম দিয়েছে। ইদানীং গরুটি দিনে তিন লিটার মতো দুধ দিচ্ছিল। তা ছাড়া সে ঠিকমতো মলমূত্র ত্যাগ করতেও পারছিল না। তখন স্থানীয় পশুচিকিৎসকের কাছে গরুটিকে নিয়ে যান মুনিরথানম। ওই পশুচিকিৎসকই পরামর্শ দেন গরুটিকে পশু হাসপাতালে নিয়ে যেতে।

ভেপেরিতে তামিলনাড়ু ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির চিকিৎসকরা (তানুভাস) অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। সফল ভাবে ওই গরুটির অস্ত্রোপচার করেছেন। অপারেশন করতেই তার পেট থেকে ওই বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিক বার হয়ে আসে।

তানুভাসের নির্দেশক বি বালসুব্রহ্মণ্যম বলেন, লোকজন অবিবেচকের মতো যত্রতত্র যথেচ্ছ ভাবে প্লাস্টিক ফেলার ফল কাছে মারাত্মক হচ্ছে। আমরা আগেও গরুর অপারেশন করে পাকস্থলী থেকে প্লাস্টিক বার করেছি, তবে ৫২ কেজি প্লাস্টিক বার করা সত্যিই নজিরবিহীন।

ভেটিরিনারি ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক পি সেলভারাজ বলেন, আমরা যখন মলাশয় পরীক্ষা করি তখনই সমস্যা বুঝতে পারি। অন্তত দুবছর ধরে সে প্লাস্টিক জাবর কেটেছে। আমরা প্রথমে ওর এক্স-রে করি এবং পরে আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করে দেখি। তখন দেখি ওর পাচনতন্ত্রের ৭৫ শতাংশ জুড়ে জমে রয়েছে প্লাস্টিক। মানে একটা গরুর পাচনতন্ত্রের চার ভাগের তিন ভাগ ভরে রয়েছে প্লাস্টিকে।

পরীক্ষা-নিরিক্ষার পরে যখন চিকিৎসকরা নিশ্চিত হলেন যে পেটের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য জমে রয়েছে বলেই গরুটির এই সমস্যা হচ্ছে, তখন তাঁরা অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদলের অন্যতম সদস্য সিএস অরুণামন বলেন, পুরোপুরি অজ্ঞান না করে গরুটিকে আমরা লোকাল অ্যানাস্থেসিয়া করার সিদ্ধান্ত নিই। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত  অপারেশন চলে।

জটিল ও কঠিন এই অপারেশনের সময় উপস্থিত ছিলেন পশুচিকিৎসার স্নাতকোত্তর পড়ুয়ারা। প্লাস্টিকের পাশাপাশি সূচও বার হয়েছে গরুটির পেট থেকে। কোনও ভাবে ওই সূচ হৃদপিণ্ডে ফুটলে তার ফল মারাত্মক হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।

যে সব প্রাণী জাবর কাটে তারা পাকস্থলী থেকে খাবার উগরে নেয়, সে ক্ষেত্রেও সূচ ফুটলে ফল মারাত্মক হতে পারে। তা ছাড়া প্লাস্টিক বা অন্য কোনও জিনিস খেয়ে গৃহপালিত প্রাণীদের স্বাস্থ্য খারাপ হলে তার ফল মানুষকেও ভুগতে হতে পারে। দুধ ও মাংস – দুই-ই আমরা পাই পশুদের থেকেই।

আগে তো আমাদের বাঙালি হতে হবে, তারপরই না ফিউশন: সনজীদা খাতুন

plastic, cow, TANUAVU, pollution, প্লাস্টিক, গরু, দূষণ, পশু হাসপাতাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More