ফের বাড়ি ফিরতে গিয়ে পিষে গেলেন শ্রমিকরা! উত্তরপ্রদেশে দু’টি ট্রাক দুর্ঘটনায় ৩ মহিলা-সহ মৃত ৫, জখম অন্তত ৩০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের দু-দু’টি পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল অন্তত ৫ জন অভিবাসী শ্রমিকের। তাঁদের মধ্যে তিন জন মহিলা রয়েছেন। দু’টি ঘটনাই সেই উত্তরপ্রদেশের। সোমবার রাতে ঝাঁসি-মির্জাপুর জাতীয় সড়কে ট্রাক উল্টে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিন জন মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আর একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে আগ্রা-লখনউ জাতীয় সড়কের উপর, উন্নাওয়ের। ট্রাকে করে আজমগড়ে ফেরার সময়ে মারা যান আরও দু’জন শ্রমিক। আহত হয়েছেন ২৩ জন।

    পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম ঘটনায় প্রচণ্ড গতিতে ছুটে আসা ট্রাকটির টায়ার বার্স্ট করে হঠাৎই। ট্রাকটিতেই ছিলেন শ্রমিকরা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ১৭ জন ছিলেন তাঁরা। তিন জন মহিলা মারা গেছেন, ১২ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    জানা গেছে, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ১৭ জন শ্রমিকের দলটি দিল্লিতে কাজ করতেন। আচমকা লকডাউনে বন্ধ হয়ে যায় রোজগার। থাকা-খাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। দেশের আরও হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের মতোই বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন তাঁরা। কোনও উপায় না করতে পেরে, এত দিন অপেক্ষা করার পরে দিল্লি থেকে হাঁটা শুরু করেন তাঁরা। মাঝপথে তাঁরা একটি ট্রাক দেখতে পেয়ে উঠে পড়েন। ট্রাকের চালক তাঁদের গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

    কিন্তু গ্রামে আর পৌঁছনো হল না। পথেই ঘটে গেল দুর্ঘটনা। আচমকা সামনের একটি চাকা বার্স্ট করে যায় ট্রাকটির। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটায় সেটি। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৩ মহিলা। উন্নাওয়ের ট্রাকটিতেও ছিলেন বহু শ্রমিক। মারা যান দু’জন। আহত ২৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০ দিনে কমপক্ষে ৫০ জন পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরতে চেয়ে দুর্ঘটনার কারণে মৃত্যু হয়েছে।

    গত শনিবারই, উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়া জেলায় দু’টি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২৬ জন শ্রমিক মারা যান এবং ৩০ জন আহত হন। তার পরে আরও তিনটি পৃথক পথ দুর্ঘটনায় মারা যান কম করে ১০ জন শ্রমিক। পরিস্থিতি বিচার করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যের সীমানা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সরকারি কর্তাদের নির্দেশ দেন, কোনও শ্রমিক যাতে আর পায়ে হেঁটে বা অন্য কোনও ভাবে রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে। পাশাপাশি অন্য সব রাজ্যে আটকে থাকা অভিবাসী শ্রমিকদের দেখাশোনা করারও নির্দেশ দেন তিনি। আশ্বাস দেন সরকারি বাস পাঠানোরও।

    কিন্তু সে আশ্বাস মোটেও যথেষ্ট হচ্ছে না। হচ্ছে না কোনও ব্যবস্থাও। তাই লকডাউনের পর থেকেই নিত্য সামনে এসেছে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্দশার কথা। রোজগার বন্ধ হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক মরিয়া হয়ে বাড়ির পথ ধরেন পায়ে হেঁটেই। কেউ ফিরতে পারেন দীর্ঘ চেষ্টায়, কারও বা পথেই ফুরোয় প্রাণ। একের পর এক আশ্চর্য গল্পও সামনে আসে। কোথাও সদ্য জন্ম দেওয়া সন্তানকে বুকে নিয়ে ১৫০ কিলোমিটার হেঁটেছেন প্রসূতি, কোথাও আবার বৃদ্ধ বাবাকে পিঠে নিয়ে চলেছে সন্তান। কোথাও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে দু’চাকার টানা গাড়ি বানিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিক, কোনও ছোট্ট ছেলে আবার ঘুমিয়ে পড়েছে স্যুটকেসের উপরেই। সব মিলিয়ে বারবার ক্ষতবিক্ষত হয়েছে এ দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থা ও অবস্থান।

    আর এর মধ্যেই প্রত্যেক দিন একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর এসেছে দেশের নানা প্রান্ত থেকে। কখনও ট্রেনের চাকায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছেন ১৬ জন পরিযায়ী শ্রমিক, কখনও ঘাতক ট্রাক পিষে দিয়েছে তাঁদের পথে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More